
প্রচণ্ড গরমে ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফিরে কিংবা ভারী ব্যায়ামের পর এক গ্লাস ঠান্ডা জল খেলে শরীর জুড়িয়ে যায়। কিন্তু স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরেও বারবার গলা শুকিয়ে আসা স্বাভাবিক বিষয় নয়। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান্স থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বিজ্ঞানের ভাষায় একে পলিডিপসিয়া বলে, যা শরীরে বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে। Getty Images
শরীর সুস্থ রাখতে শুধুমাত্র সাধারণ জলই যথেষ্ট নয়, রক্তে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজের ভারসাম্য লাগে। আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, এই জরুরি উপাদানগুলোকে একত্রে ইলেকট্রোলাইটস বলা হয়। শরীরে জলের মাত্রা সঠিক রাখা এবং প্রতিটি কোষকে সতেজ রাখতে এরা নিরন্তর পাহারাদারের মতো কাজ করে থাকে। Getty Images
অনেকেরই একটি বদভ্যাস থাকে, অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া মাত্রই একবারে ঢকঢক করে অনেকটা জল গিলে ফেলা। হার্ভার্ড হেলথ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, খুব অল্প সময়ে অতিরিক্ত জল খেলে রক্তের প্রয়োজনীয় সোডিয়াম তরল হয়ে বিপজ্জনকভাবে পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের ভারসাম্য বিগড়ে গিয়ে কোষগুলো তরল ধরে রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারায়। Getty Images
রক্তে খনিজের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে কোষে তরল আর ঠিকমতো ঢুকতে পারে না। যার জেরে শরীরে প্রচুর জল থাকা সত্ত্বেও ভেতর থেকে কোষগুলো শুকনো এবং জলশূন্য হয়ে পড়তে শুরু করে। এই কারণেই বারবার ঢকঢক করে জল খাওয়ার ঠিক পরেই ফের তীব্র তেষ্টা পেয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। Getty Images
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ঘন ঘন এমন অস্বাভাবিক গলা শুকিয়ে যাওয়া মধুমেহ বা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সংকেত। রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কিডনি সেই চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার জন্য অতিরিক্ত কাজ শুরু করে। ফলে ঘন ঘন বাথরুম যেতে হয়, শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে এবং বারবার তীব্র তৃষ্ণা পায়। Getty Images
কিডনি বিকল হতে শুরু করলেও শরীরের বাড়তি তরল বা বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে শরীর ভেতর থেকে অতিরিক্ত জল হারাতে থাকে এবং রোগী বারবার অস্বাভাবিক তৃষ্ণা অনুভব করতে শুরু করেন। এছাড়া লিভারের জটিল অসুস্থতা শরীরে তৈরি হলেও ভেতর থেকে শুকিয়ে গিয়ে জলের এমন হাহাকার তৈরি হতে পারে। Getty Images
আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং কিছু কড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও মুখের লালা শুকিয়ে যায়। লালাক্ষরণ কমে গেলে জিভ আঠা আঠা হয়ে আসে এবং মনে হয় সারাদিন শুধু ঢকঢক করে জল খাই। এই লক্ষণকে সাধারণ আবহাওয়া বা সামান্য তেষ্টা ভেবে দিনের পর দিন অবহেলা করা একদমই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। Getty Images
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ এর তথ্য অনুযায়ী, এমন লক্ষণ টানা দেখা দিলে নিজে ডাক্তারি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। খালি পেটে সামান্য কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করালেই আসল কারণটি খুব সহজেই এবং দ্রুত ধরা পড়ে যায়। সময় থাকতে সতর্ক হয়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতের বড় ধরনের শারীরিক বিপদ অনায়াসেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। Getty Images