
বিপদে পড়লেই মানুষ আগে ভগবানকে ডাকেন। তাই ভগবানকে স্মরণ করার আগে তাঁকে ভক্তি ভরে আরাধনা ও প্রতিকারও মেনে চলেন। মৃত্যুর আগেও মানুষ ভগবানের নাম নিতে চান। অন্যদিকে, হিন্দু পুরাণ মতে, ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে মরিয়দা পুরুষোত্তম নামেও পরিচিত।

রামায়ণের কথা অনুসারে, শ্রীরামচন্দ্রের গোটা জীবনের আদর্শ, কর্তব্য ও ত্যাগের বিভিন্ন কাহিনি কোনও রূপকথার কাহিনির চেয়ে কম নয়। হিন্দুদের কাছে রামায়ণের মূল চরিত্রকে একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করেন। শ্রীরামচন্দ্রর সমস্ত আদর্শ ও গুণ একজন পুরুষের মধ্যে থাকা উচিত।

রাম একটি অলৌকিক শব্দ। হরি বা কৃষ্ণের মতো নিয়মিত রাম নাম জপ করলে জীবনের নানা সমস্যা ও বিপদ কেটে যেতে পারে, মুক্তি লাভ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। কথিত আছে, বিপদ বা সমস্যায় পড়লে রাম নাম জপলে সব আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হয়। রাম নামের রয়েছে আশ্চর্যজনক এক শক্তি।

অনেকেই রয়েছেন, যারা সবসময়ই রোগভোগের শিকার হন। সারা বছর কোনও না কোনও রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও সময়ই যেন রোগ তাদের পিছু ছাড়ে না। এমন পরিস্থিতি হলে নিয়মিত রাম নাম জপতে পারেন। শাস্ত্রমতে, সব রকম রোগ থেকে মুক্তি পেতে রামের নাম জপতে পারেন। সুস্থ থাকে শরীর।

পজিটিভ শক্তিগুলি হ্রাস পেয়ে জীবনে বহু নেগেটিভিটির ঝড় উঠলে মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বাড়ে। রামের নাম জপ শুরু করা হলে জীবনে নেমে আসে ইতিবাচক শক্তির বন্যা। কথিত আছে, রোজ নিয়ম করে রাম নাম জপ করা হলে নেতিবাচক শক্তি হ্রাস পায়, অপরদিকে ইতিবাচক শক্তি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

সকলেরই জীবনে নানা সময়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এমন সময় আত্মবিশ্বাস ও শক্তি কমতে শুরু করে। তাতে সমস্যার মোকাবিলা করতেও অসুবিধায় পড়তে হয়। জীবনে নেমে আসা নানা সমস্যা ও অসুবিধা তৈরি হলে রামের নাম জপতে পারেন। কাজে দেবে তড়িঘড়ি।

জন্মকুণ্ডলীতে শনির দোষ থাকলে বহু পরিশ্রম বিফলে যেতে পারে। কষ্ট করে কোনও কাজই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে না। সব কাজই পণ্ড হয়ে যায়। সঠিক শ্রমের ফল পেতে রামের নাম জপ করতে পারেন। কথিত আছে, শনি দোষের প্রভাব কমাতে রামের নাম জপ করা হল শ্রেয়।

বহুদিন ধরে কোনও ইচ্ছা মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকলে তা দ্রুত পূরণ করার চেষ্টা করতে চাইলে প্রতিদিন ১০৮ বার রামের নাম জপ করা উচিত। ভগবান রাম অবশ্যই আপনার ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন, বিশ্বাস রাখেন হিন্দুরা।