
আপনি কি জানেন, আপনার কোল বা বিছানায় থাকা শখের ল্যাপটপটি যেকোনো মুহূর্তে একটা টাইম বোমায় পরিণত হতে পারে? প্রতিদিনের ব্যবহারে যেসব ছোটখাটো ভুলকে একদম গায়ে মাখেন না, সেগুলোই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক ব্যাটারি বিস্ফোরণ। একটু অসাবধানতাই কিন্তু বড়সড় বিপদের পথ তৈরি করে দেয়! Getty Images

ধোঁয়া ওঠা গরম চা বা কফির কাপটা ল্যাপটপের একদম পাশে বা কী-বোর্ডের ওপর রেখেই কাজ করছেন? সামান্য হাত লেগে সেই তরল ভেতরে ঢুকলেই মাদারবোর্ড শর্ট সার্কিট হতে এক সেকেন্ডও লাগবে না। ব্যাটারির ভেতর আগুন ধরে গিয়ে নিমেষেই ঘটে যেতে পারে অঘটন! Getty Images

বিছানার নরম তোশক বা কোল বালিশের ওপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করার অভ্যাসটা আজই ছাড়ুন। এসব জায়গায় রাখলে ভেতরের গরম হাওয়া বের হওয়ার এয়ার ভেন্টগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রসেসর অস্বাভাবিক গরম হয়ে সেই তাপ সরাসরি লিথিয়াম ব্যাটারিতে গিয়ে লাগলে বাস্ট হওয়া ছাড়া আর কোনও পথ থাকে না! Getty Images

আসল চার্জারটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে সস্তার কোনও লোকাল চার্জার দিয়ে ল্যাপটপ প্লাগ-ইন করছেন না তো? এসব নকল চার্জারে ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণের কোনও ক্ষমতা থাকে না, ফলে হাই ভোল্টেজ শকে ব্যাটারি ভেতরের দিক থেকে বিষাক্ত গ্যাসে ফুলে ওঠে। আর ফোলা ব্যাটারি মানেই চোখের পলকে বাস্ট করার বড়সড় ঝুঁকি! Getty Images

রাতভর ল্যাপটপ চার্জে বসিয়ে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ার ট্রেন্ড কিন্তু ভীষণ বিপজ্জনক। ১০০% চার্জ হয়ে যাওয়ার পরেও প্লাগ গুঁজে রাখলে কেমিক্যাল ওভারহিটিং শুরু হয়, যা ব্যাটারির থার্মাল রানঅ্যাওয়ে ঘটায়। অর্থাৎ তাপ বাড়তে বাড়তে ল্যাপটপটির বারোটা বাজতে পারে। Getty Images

কড়া রোদের মধ্যে ল্যাপটপ ফেলে রাখা কিংবা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ গাড়ির ভেতর ডিভাইস রেখে দেওয়া চরম ভুল সিদ্ধান্ত। ভেতরের পার্টসের তাপমাত্রা আর বাইরের রোদের তীব্র উত্তাপ মিলে ব্যাটারির সেলগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে অকেজো করে দেয়। তাপমাত্রা সহনশীলতার সীমা পার করলেই ধরে যেতে পারে আগুন! Getty Images

ল্যাপটপ থেকে হঠাৎ কোনও মিষ্টি কেমিক্যালের গন্ধ, প্লাস্টিক পোড়ার শাঁ শাঁ শব্দ কিংবা ব্যাটারির দিকটা ফুলে উঠতে দেখছেন? ভুলেও এটাকে অবহেলা করবেন না, এটা স্পষ্ট বার্তা যে ব্যাটারি তার শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছে! এমনটা দেখলে এক সেকেন্ডও না ভেবে সঙ্গে সঙ্গে সুইচ অফ করে রেখে দিন। Getty Images

স্মার্টলি গ্যাজেট ব্যবহার করুন, অহেতুক জীবন ও ল্যাপটপ দুটোকেই ঝুঁকিতে ফেলবেন না। ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার, কাজের সময় হার্ড সারফেসে রাখা আর নিয়মিত সার্ভিসিং করলেই নিশ্চিন্ত থাকা যায়। একটু সজাগ আর সতর্ক থাকলেই কিন্তু এই বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব! Getty Images