
উৎসবের মরশুমে সোনা কেনার পাশাপাশি রুপোর গয়না বা বাসনপত্র কেনার ঝোঁক বহু গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু কেনার সময়ে সেই রুপো কতটা খাঁটি, তা যাচাই না করলে পরবর্তী সময়ে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়। গ্রাহকদের খাঁটি ধাতু পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতেই মূলত কাজ করে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস বা বিআইএস (BIS)-এর হলমার্কিং ব্যবস্থা। Getty Images
সোনার গয়নায় হলমার্কিং বাধ্যতামূলক হলেও ২০০৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে রুপোর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি ঐচ্ছিক হিসেবে চালু রয়েছে। যদিও দেশে সচেতনতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি রুপো বিক্রেতা বিআইএস-এর অধীনে নিজেদের নথিভুক্ত করিয়েছেন। বর্তমানে দেশের ১০২টি জেলায় প্রায় ৩৪১টি কেন্দ্র রূপোর মান যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছে। Getty Images
রুপোর গয়না বা অন্যান্য জিনিসে ৯২৫ কিংবা ৮০০-র মতো সংখ্যা খোদাই করা থাকলে সেটির খাঁটি মান বোঝা সহজ হয়। ৯২৫ সংখ্যার অর্থ হল জিনিসটিতে ৯২.৫ শতাংশ খাঁটি রুপো রয়েছে, যাকে চলতি কথায় স্টার্লিং সিলভার বলা হয়। অন্যদিকে ৮০০ সংখ্যার অর্থ হল সামগ্রীটির মধ্যে ৮০ শতাংশ খাঁটি রুপো এবং বাকি অংশে অন্য ধাতু মিশিয়ে শক্তপোক্ত করা হয়েছে। Getty Images
সমীক্ষা অনুসারে বাজারে বিক্রি হওয়া মোট হলমার্ক করা রুপোর সামগ্রীর প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি হয় এই ৯২৫ এবং ৮০০ গ্রেডের মাধ্যমে। হলমার্ক ছাড়া সাধারণ রুপো কিনলে পরবর্তী সময়ে তা বিক্রি করতে গিয়ে ঠকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। কারণ সাধারণ রূপোয় দাবির তুলনায় রুপোর প্রকৃত পরিমাণ অনেক সময়েই কম পাওয়া যায়। Getty Images
বিআইএস-এর নিয়ম অনুযায়ী রুপোর জিনিসে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমত বিআইএস মানক লোগো, দ্বিতীয়ত ইংরেজিতে স্পষ্ট হরফে লেখা ‘SILVER’ শব্দটি এবং এর সঙ্গেই ধাতুর নির্দিষ্ট গ্রেড সংখ্যা। এই চিহ্নগুলি ঠিকঠাক থাকলে বোঝা যায় সংশ্লিষ্ট সামগ্রীটি নির্ধারিত গুণমান মেনেই বাজারে আনা হয়েছে। Getty Images
হলমার্কিং আরও নিখুঁত ও সুরক্ষিত করতে সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে রুপোর গয়নাতেও ছয় সংখ্যার বিশেষ আলফানিউমেরিক ‘এইচইউআইডি’ (HUID) কোড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লেজারের মাধ্যমে খোদাই করা এই ডিজিটাল নম্বরটির কারণে কোনও রকম নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। Getty Images
বাজারে কেনাকাটা করার সময়েই গ্রাহকরা এখন খুব সহজে স্মার্টফোনের মাধ্যমে রুপোর আসল সত্যতা যাচাই করে নিতে পারেন। কেন্দ্র সরকারের তৈরি ‘BIS CARE’ অ্যাপে গিয়ে গয়নার গায়ে থাকা ছয় সংখ্যার এইচইউআইডি কোডটি দিলেই বিক্রেতা ও বিশুদ্ধতা সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। ফলে কোনও ধোঁয়াশা ছাড়াই নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করা যায়। Getty Images
বিআইএস-এর সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে গোটা দেশের মধ্যে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতেই রুপোর হলমার্কিংয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সামগ্রিক চাহিদার নিরিখে ১০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের সামগ্রী, বিশেষ করে রূপোর চেন, আংটি, নুপূর, ব্রেসলেট কিংবা বাচ্চার সামগ্রী সাধারণ মানুষের পছন্দের তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। Getty Images