
ডিম কিনতে গিয়ে সাদা নাকি লাল, কোনটাই বা বেশি উপকারী, এই দোলাচলে কম-বেশি সকলেই পড়েন। তবে হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের খোসার রঙের সঙ্গে তার গুণগত মান বা স্বাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে মুরগির জাতের ওপর নির্ভর করেই ডিমের খোসার রঙ সাদা, লাল, ক্রিম বা অন্য রকম হয়ে থাকে। Gemini Ai

সাধারণত হালকা রঙের পালক ও সাদা কানযুক্ত মুরগিগুলি সাদা ডিম পেড়ে থাকে এবং লালচে বা বাদামী পালকযুক্ত মুরগিগুলি লাল ডিম দেয়। রঙের এই ফারাক স্রেফ জিনগত কারণে ঘটে, এর পেছনে অন্য কোনও পুষ্টি রহস্য লুকিয়ে নেই। তাই লাল ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং বিজ্ঞানসম্মত নয়। Gemini Ai

ডিম যে রঙেরই হোক না কেন, উভয়ের পুষ্টিগুণ সমান। ডিমের গুণমান মূলত নির্ভর করে মুরগির প্রতিদিনের ডায়েট, তার লাইফস্টাইল এবং ডিমটি কতটা টাটকা তার ওপর। তাই স্রেফ খোসার রঙ দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে মুরগির পালনপদ্ধতি সম্পর্কে জানা বেশি জরুরি। Gemini Ai

ডিমকে প্রকৃতির অন্যতম সেরা 'সুপারফুড' বলা হয়ে থাকে, যা আমাদের শরীরের একাধিক ঘাটতি পূরণ করে। প্রতিদিনের ডায়েটে একটি ডিম রাখলে তা উচ্চমানের প্রোটিন, কোলিন এবং বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এছাড়া শরীরকে সচল ও চাঙ্গা রাখতেও এই উপাদানগুলি দারুণ কার্যকরী ভূমিকা নেয়। Gemini Ai

ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং লুটেইন ও জিক্সানথিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি আমাদের চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। লাল বা সাদা, দুই ধরণের ডিম থেকেই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি সমানভাবে পাওয়া যায়। Gemini Ai

বাজারে ডিম কেনার সময় রঙের পেছনে না ছুটে তিনটি বিশেষ বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া উচিত। সবার আগে দেখে নিন ডিমের গায়ে কোনও ফাটল বা নোংরা রয়েছে কিনা এবং তার মেয়াদ বা এক্সপায়ারি ডেট ঠিক আছে কিনা। ডিম কতটা তাজা ও টাটকা, সেটাই তার আসল গুণাগুণ নির্ধারণের আসল চাবিকাঠি। Gemini Ai

ডিম ভালো রাখার জন্য তা সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা ডিম সবসময় ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রেফ্রিজারেটরের দরজার তাকে ডিম না রেখে, ভেতরের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা অংশে রাখলে ডিম দীর্ঘদিন ভালো ও তাজা থাকে। Gemini Ai

ডিম কিনে আনার পর তা সবসময় নিজস্ব কার্টনে বা ঢাকা পাত্রে গুছিয়ে রাখা উচিত। ফ্রিজের দরজার অংশ বারবার খোলা-পড়া হওয়ার কারণে সেখানে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে, যা ডিম দ্রুত নষ্ট করতে পারে। তাই সঠিক উপায়ে ডিম সংরক্ষণ করুন এবং রঙ নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিশ্চিন্তে ডিমের পুষ্টি উপভোগ করুন। Gemini Ai