
দুপুরবেলা ভাত খাওয়ার পরই জুড়িয়ে আসে চোখ। কয়েক মিনিটও চোখ খুলে রাখা কঠিন কাজ বলে মনে হয়। এই অভিজ্ঞতা কিন্তু কম-বেশি সকলেরই হয়। তবে ভেবে দেখেছেন কখনও, ভাত খাওয়ার পরই ঘুম পায় কেন?

বহু মানুষেরই ভাত খাওয়ার পর ক্লান্ত লাগে। তাদের শরীর তেমন চলতে চায় না। বরং একটু ঘুমিয়ে নিলে ভালো হয়, এমনটাই ভাবনা মাথায় ঘোরে। বিশেষ করে অফিসে বসে কাজ করতে গিয়ে তো অনেকেরই এমন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হল ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট। যখন আমরা ভাত খাই, তখন কার্বোহাইড্রেট গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। এতে হঠাৎ করে ব্লাড সুগার লেভেল বেড়ে যায়।

ভাত খাওয়ার পর সাময়িক এনার্জি বা শক্তি পাওয়া গেলেও, কিছুক্ষণ পর থেকে এই শক্তি কমতে থাকে। সেই কারণেই অনেকে ক্লান্ত অনুভব করেন বা ঘুম পায়।

সাদা ভাতে হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে। এতে ভাত শরীরে প্রবেশ করার পর তাড়াতাড়ি হজম হয়। এতে ব্লাড সুগার লেভেল হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এর কারণেও শরীর দুর্বল বা ক্লান্ত বোধ করে।

কতটা ভাত খাচ্ছেন, সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। অত্যাধিক পরিমাণে যদি ভাত খেয়ে ফেলেন, সঙ্গে তরকারি, ভাজাভুজি খেলে হজম সিস্টেমের উপরে অনেকটা চাপ পড়ে যায়। এতে হজম ক্ষমতা কমে যায়।

ভাত খাওয়ার পর ঘুম পাওয়া কোনও রোগ না হলেও, এতে দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়ে। এর ফলে কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কাজে দেরি হয়ে যায়।

যদি ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সঙ্গে ডাল, ডিম, চিজ বা অন্যান্য প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়া যায়, তবে ডায়েট অনেকটা বদলে যায়। এছাড়া ফাইবার যুক্ত খাবার শরীরে ব্লাড সুগার লেভেল বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দুপুরে ভাত খাওয়ার পর যদি কেউ ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটতে পারেন, তাহলে শরীরে ব্লাড সুগার লেভেল হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যায় না। শরীর অনেকটা সুস্থ থাকে।