
আমের বোঁটার কাছে এবং খোসায় প্রাকৃতিকভাবেই ‘ফাইটিক অ্যাসিড’ (Phytic Acid) নামক একটি উপাদান থাকে। এটি শরীরের জন্য এক ধরণের ‘অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট’, যা ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ শোষণে বাধা দেয়। জলে ভিজিয়ে রাখলে এই অ্যাসিড ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়।

আম একটি ‘থার্মোজেনিক’ ফল, যা খাওয়ার পর শরীরের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়। আম জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে তার ভেতরের এই তাপীয় গুণ বা ‘থার্মোজেনিক প্রপার্টি’ অনেকটাই কমে আসে। ফলে আম খাওয়ার পর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

অনেকেরই আম খেলে মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। এর মূল কারণ হলো আমের বোঁটা থেকে বের হওয়া কষ এবং অতিরিক্ত থার্মোজেনিক উপাদান। আম খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে জলে ভিজিয়ে রাখলে ত্বকের এই ধরণের সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।

আজকাল আম দ্রুত পাকাতে বা গাছ থেকে পাড়ার পর তা তাজা রাখতে নানা ধরণের রাসায়নিক (যেমন ক্যালসিয়াম কার্বাইড) ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। শুধু সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেললে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো সম্পূর্ণ দূর হয় না। কিছুক্ষণ জলে ডুবিয়ে রাখলে খোসার ছিদ্রে জমে থাকা রাসায়নিক পুরোপুরি ধুয়ে যায়।

অনেক সময় আম খাওয়ার পরেই পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুক জ্বালা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। আম জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে তার ভেতরের অতিরিক্ত শর্করা ও অম্লতা কিছুটা সাম্যাবস্থায় আসে, যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রের জন্য এটি হজম করা সহজ করে তোলে।

আম পাড়ার পর বোঁটার মুখ থেকে এক ধরণের আঠালো তরল বা ‘কষ’ বের হয়। এই কষ যদি আম কাটার সময় মুখে বা ঠোঁটে লেগে যায়, তবে সেখানে চুলকানি, ঘা বা ফোসকা পড়ে যেতে পারে। জলে ভিজিয়ে রাখলে এই আঠা নরম হয়ে জলের সাথে মিশে যায় এবং পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়।

বাজার থেকে আনার পর আমের ওপর জমে থাকা ধুলোবালি এবং ব্যাকটেরিয়া জলে ভেজানোর ফলে সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। এটি আমকে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ থেকে বাঁচায় এবং কাটার সময় ভেতরের শাঁসকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও সতেজ রাখে।