
বাস্তুশাস্ত্র (Vastu) অনুযায়ী ঘরের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেকেই এমন কিছু ভুল করে থাকেন, যার খেসারত দিতে হয় গোটা পরিবারকে। তেমনই একটি মারাত্মক ভুল হল ঘরের মেঝেতে যত্রতত্র চুল ফেলে রাখা। চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে কম-বেশি সকলেরই চুল ওড়ে। বর্তমান সময়ে চুল পড়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। তবে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি এর একটি গভীর জ্যোতিষ ও বাস্তুগত দিকও রয়েছে। ঘর পরিষ্কার করার পরেও অনেক সময় অসাবধানে ঘরের কোণে চুল জমে থাকে, যা বাস্তুমতে অত্যন্ত অমঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়।
বাস্তুবিদদের মতে, মানুষের শরীরের ঝরে পড়া চুলের সঙ্গে রাহু ও শনি গ্রহের এক নিবিড় সংযোগ রয়েছে। মানুষের ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তার শারীরিক ও গ্রহগত শক্তির একটা বড় অংশ বহন করে এই চুল। ফলে ঘরজুড়ে চুল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানেই আসলে নেতিবাচক শক্তিকে সরাসরি ঘরের ভেতর আমন্ত্রণ জানানো। এই অভ্যাসের কারণে সবচেয়ে প্রথম এবং বড় ধাক্কাটি আসে আর্থিক ক্ষেত্রে। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, যেখানে-সেখানে চুল পড়ে থাকলে সংসারে লক্ষ্মীলাভে বড় বাধা তৈরি হয়। এর ফলে উপার্জনে টান পড়ে এবং আচমকাই অপ্রত্যাশিত ও অনাবশ্যক খরচের বহর বাড়তে শুরু করে।
কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, শনির কুপ্রভাবের কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। বাড়ে অকারণ ভয়, উদ্বেগ আর গভীর দুশ্চিন্তা। ঘরের মেঝেতে বা আসবাবের ফাঁকে পড়ে থাকা চুল শুধু স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতাই নষ্ট করে না, বরং তার কুপ্রভাব পড়ে পারিবারিক সম্পর্কের দেওয়ালেও। ঘরের চর্তুদিকে ছড়িয়ে থাকা চুল পারিবারিক শান্তি শুষে নেয়। এর ফলে সামান্য কারণেই সদস্যদের মধ্যে খিটখিট বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
অনেকের মধ্যেই আবার পরে বিক্রি করার বা অন্য কোনও আশায় দীর্ঘদিন ধরে ঝরে যাওয়া চুল জমিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। বাস্তুমতে এই অভ্যাসও ঘোর অমঙ্গলজনক। জমে থাকা চুলে ধুলো-ময়লা জমে স্বাস্থ্যের ক্ষতি তো হয়ই, সঙ্গে বাড়ে রাহুর প্রকোপ। এছাড়া জ্যোতিষশাস্ত্রে আরেকটি বড় আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। খোলা জায়গায় পড়ে থাকা চুল অনেক সময় তন্ত্র-মন্ত্র বা অসৎ উদ্দেশ্যে অপব্যবহার হতে পারে। তাই নিজের মানসিক শান্তি ও সংসারের শ্রীবৃদ্ধি বজায় রাখতে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। চুল যত্রতত্র না ফেলে, তা সবসময় মুড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে বা ডাস্টবিনে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।