
বাঙালি হিন্দু পরিবারে জামাইষষ্ঠী (Jamai Sasthi) মানেই এক আলাদা আবেগ। জামাইকে আদর-যত্নে ভরিয়ে দেওয়া, জমিয়ে ভূরিভোজ আর উপহারের পর্ব, সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। আগামী ২০ জুন ২০২৬, শনিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে এই বিশেষ উৎসব। শাশুড়ি মায়েরা এই দিনটিতে জামাইয়ের দীর্ঘায়ু এবং দম্পতির সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে হাতে হলুদ সুতো বেঁধে দেন। তবে জানেন কি, এই আনন্দের আবহে উপহার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটা ছোট্ট ভুলও কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বিগড়ে দিতে পারে? শাস্ত্রে উপহার দেওয়া-নেওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শক্তির প্রভাবের কথা বলা হয়েছে।
কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?
পোশাক ও গ্যাজেট কেনার আগে যা জানা দরকার
জামাইষষ্ঠীর উপহারের তালিকায় অবধারিতভাবেই সবার আগে আসে নতুন পোশাকের নাম। জামাইকে নতুন জামাকাপড় দেওয়া অত্যন্ত শুভ হলেও রঙের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। শাস্ত্রমতে, ভুলেও জামাইকে কালো কিংবা অতিরিক্ত গাঢ় রঙের পোশাক উপহার দেওয়া চলবে না। এতে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সবসময় হালকা ও উজ্জ্বল রঙের পোশাক বেছে নেওয়াই শ্রেয়। অন্যদিকে, যদি প্রতি বছর জামাইকে একই ধরনের পোশাক দিতে দিতে নতুনত্ব কিছু করতে চান, তবে বৈদ্যুতিক সামগ্রী বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট হতে পারে সেরা বিকল্প। যেকোনও দরকারি গ্যাজেট উপহার হিসেবে দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, এতে কোনও রঙের বাছবিচার বা বিধিনিষেধ নেই।
ব্যাগ ও রুপোর গয়না দেওয়ার নিয়ম
অনেকেই জামাইকে সুন্দর একটি মানিব্যাগ উপহার দিতে পছন্দ করেন। কিন্তু জ্যোতিষ শাস্ত্র বলছে, খালি মানিব্যাগ বা ওয়ালেট উপহার দেওয়া মোটেও শুভ নয়। যদি মানিব্যাগ দিতেই হয়, তবে তার ভেতরে অবশ্যই কিছু টাকা রেখে তারপর জামাইয়ের হাতে তুলে দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি মানিব্যাগের বদলে ল্যাপটপ ব্যাগ কিংবা পিঠে নেওয়ার ব্যাকপ্যাক উপহার দিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রেও কালো রঙটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এর পাশাপাশি, আপনার জামাই যদি একটু ফ্যাশন সচেতন হন, তবে তাঁকে রুপোর তৈরি ব্রেসলেট, বালা, গলার চেন কিংবা আংটি উপহার দেওয়া যেতে পারে। রুপো ধাতুটি জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী অত্যন্ত শুভ এবং এটি মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
ঘর সাজানোর জিনিস এবং যা বর্জনীয়
জামাইয়ের ঘরের বা অফিসের ডেস্কের শোভা বাড়াতে উপহার হিসেবে ইনডোর প্ল্যান্ট বা সুন্দর কোনও শো-পিস দিতে পারেন। শাস্ত্র অনুযায়ী, ঘর সাজানোর জিনিস হিসেবে লাফিং বুদ্ধ কিংবা বুদ্ধমূর্তি উপহার দেওয়া দারুণ ফলদায়ক। এটি জীবনে পজিটিভ এনার্জি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। তবে উপহারের তালিকা থেকে ঘড়িকে একেবারেই বাদ রাখতে হবে। জ্যোতিষ মতে, কাউকে ঘড়ি উপহার দেওয়া বা কারও থেকে ঘড়ি নেওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এই নিয়মগুলি মাথায় রেখে উপহার সাজালে উৎসবের আনন্দ যেমন দ্বিগুণ হবে, তেমনই মজবুত হবে পারিবারিক বন্ধনও।