
বাস্তু শাস্ত্র (Vastu Shastra) এবং হিন্দু সনাতন ধর্মে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ঘটনার পেছনেও লুকিয়ে থাকে গভীর কোনও অর্থ। রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে আচমকা হাত থেকে দুধের পাত্রটি পড়ে গেল, কিংবা অসাবধানে মেঝেতে চলকে পড়ল রান্নার তেল, এই ধরনের ঘটনা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই কখনও না কখনও ঘটেছে। সাধারণ মানুষ একে নিছক দুর্ঘটনা মনে করলেও, বিখ্যাত জ্যোতিষী ড. বাসবরাজ গুরুজী জানাচ্ছেন, এগুলো আসলে আপনার অনাগত ভবিষ্যতের শুভ কিংবা অশুভ সঙ্কেত।
ড. বাসবরাজ গুরুজীর মতে, সনাতন সংস্কৃতিতে দুধকে পবিত্রতা, সমৃদ্ধি ও শুদ্ধতার প্রতীক মনে করা হয়। তাই কোনও শুভ কাজ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আবহে দুধের ব্যবহার করা হয় । কিন্তু যদি অজান্তেই বাড়িতে বারবার দুধ পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে তা আসলে দারুণ এক শুভ ইঙ্গিত।
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, দুধ হল চন্দ্রের প্রতীক। আর মেঝেতে বা উনুনে দুধ পড়ে যাওয়া মানে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ আপনার পরিবারে বর্ষিত হতে চলেছে। শ্রীবিষ্ণু যেহেতু সংসারের স্থায়িত্ব এবং পালনকর্তা, তাই তাঁর কৃপায় ঘরে শান্তি, মানসিক স্বস্তি ও আর্থিক উন্নতির পথ খুলে যায়। ব্যবসা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দূর হয় বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েনও। তবে মনে রাখবেন, এই সমস্ত শুভ ফল কেবল তখনই মিলবে, যখন ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটবে। ইচ্ছে করে দুধ ফেললে কিন্তু কোনও লাভই হবে না, উল্টে দায়ী হতে হবে অপচয়ের অপরাধে।
তেল পড়ে যাওয়া কি সত্যিই ভয়ের?
দুধের ঠিক উল্টো পিঠ হল তেল। রান্নাঘরের সর্ষের তেল হোক বা চুলে মাখার সুগন্ধি তেল, হাত ফস্কে তা মেঝেতে পড়ে যাওয়া অত্যন্ত অশুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। বাস্তু ও জ্যোতিষ বিজ্ঞান বলছে, তেল হল শনি দেবের প্রতীক। ফলে ঘরে বারবার তেল পড়ে যাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, আপনার জীবনে শনির কুনজর পড়তে চলেছে। এটি পরিবারে কোনও বড় আর্থিক অনটন, আকস্মিক ঋণের বোঝা, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা সদস্যদের মধ্যে তীব্র অশান্তির আগাম সতর্কতা। তাই এমনটা ঘটলে অবিলম্বে সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
অমঙ্গল এড়াতে কী করবেন?
ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ এই অশুভ প্রভাব কাটানোর উপায়ও বাতলে দিয়েছেন ড. বাসবরাজ গুরুজী। যদি বাড়িতে ঘন ঘন তেল পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে বুঝতে হবে শনি দেব রুষ্ট হয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে অবিলম্বে শনি মন্দিরে গিয়ে তাঁর দর্শন করুন। সেখানে সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বেলে ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে শনির কুপ্রভাব অনেকটাই কেটে যায়। বিশেষ করে বাড়ির মা-বোনেদের এই বিষয়গুলির প্রতি বাড়তি নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গুরুজী, যাতে সংসারের সুখ-শান্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।