
কলকাতা: বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। এর মধ্যেই একটি হল বিশ্বকর্মা পুজো। বাবা বিশ্বকর্মার আগমন মানেই একপ্রকার দুর্গাপূজার আগমন হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। শরতের আকাশে যেমন ভেসে বেড়ায় রঙ-বেরঙের ঘুড়ি, তেমনই আমাদের প্রত্যেকের বাহন, সে হোক সাইকেল বা বাইক – সবকিছুকেই পুজো করা হয়। এই দিনটি এলেই একদিকে যেমন গাড়ি পুজো, অন্যদিকে সকাল থেকেই ভোকাট্টার উল্লাস – এই দুইয়ে মেতে ওঠে বাঙালিরা।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর হয় বিশ্বকর্মা পুজো। তবে ২০২৬ সালে এই পুজো একদিন পিছিয়ে হচ্ছে ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)। প্রত্যেক বছর এক দিনেই হয় বিশ্বকর্মা পুজো। লক্ষ্মী পুজো, দুর্গাপুজো, কালীপুজোর তারিখ বদলে গেলেও বদলায় না এই পুজোর তারিখ। কিন্তু এবছর এই নিয়মেও বদল হল।
কেন ১৭ তারিখেই বিশ্বকর্মা পুজো হয়?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মের যাবতীয় যা পুজো, সবকিছুর তার তারিখ নির্ধারণ হয় চাঁদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। একমাত্র বিশ্বকর্মা পুজোর তিথি দেখা হয় সূর্যের অবস্থানের উপর। এখানে সূর্যসিদ্ধান্ত ও বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত – দুই মতেই আসলে ভাদ্রের শেষ দিনে হয় বিশ্বকর্মার পুজো। তবে এবার তারিখ বদলের পিছনেও আছে নিয়ম। ভাদ্র মাস আসলে বাংলা পঞ্জিকার পঞ্চম মাস। এই ৫ মাস মিলিয়ে প্রায় ১৫৬ দিন হয়। কিন্তু যদি কোনও মাস ২৯ দিন বা ৩২ দিন হয়, তখনই একমাত্র পুজো একদিন পিছিয়ে বা এগিয়ে যায়।
এবছর ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্য সিংহ থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করবে। সূর্যের প্রবেশের উপর ভিত্তি করেই ১৭ সেপ্টেম্বর ভাদ্র সংক্রান্তির পুজো হয়। এবার সূর্যের কন্যা রাশিতে প্রবেশ ঘটছে ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ রাতে বা ১৮ সেপ্টেম্বর শুরুতে। তাই এই দিন অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর হবে বিশ্বকর্মা পুজো।