
সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমেরোলজি (Numerology) অনুযায়ী, মানুষের জন্মতারিখের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে তাঁর চরিত্রের আসল চাবিকাঠি। যে কোনও মাসের ৮, ১৭ কিংবা ২৬ তারিখে যাঁদের জন্ম, অঙ্কশাস্ত্রের হিসেবে তাঁদের মূলাঙ্ক হল ৮ (Mulank 8)। এই সংখ্যার ভাগ্যবিধাতা স্বয়ং ন্যায়দেবতা শনি। আর সেই কারণেই এই মানুষদের জীবন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ও কিছুটা রহস্যময় হয়।
এই ৮ মূলাঙ্কের জাতকদের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলেন শনি দেব। লোকদেখানো আড়ম্বর বা দেখনদারি এঁরা একদমই পছন্দ করেন না। খুব সাধারণ পোশাক আর ছিমছাম জীবনযাপনে এঁরা অভ্যস্ত। যাঁরা বড্ড বেশি নিজেকে জাহির করতে ভালোবাসেন, তাঁদের থেকে এঁরা ১০০ হাত দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। এই জাতকরা ভাগ্যের চেয়ে নিজের কর্মের ওপর বেশি ভরসা রাখেন। বিজ্ঞান ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, এই মানসিকতার মানুষেরা আত্মকেন্দ্রিক হলেও ভীষণ রকমের বাস্তববাদী হন।
৮ মূলাঙ্কের মানুষদের জীবন কিন্তু একেবারেই সহজ নয়। জীবনের শুরুর দিনগুলো কাটে চরম সংগ্রাম আর রোদ-ঝড়ের মধ্যে দিয়ে। সহজে বা বিনা পরিশ্রমে কোনও কিছু পাওয়া এঁদের ভাগ্যে থাকে না। তবে শনির স্বভাবের মতোই এঁরা অত্যন্ত ধৈর্যশীল আর একরোখা হন। কোনও পরিস্থিতিতেই হাল ছেড়ে দেওয়া এঁদের স্বভাবের বাইরে। সংখ্যাতত্ত্বের বিশেষজ্ঞদের মতে, এঁদের সাফল্য আসতে কিছুটা দেরি হয়। সাধারণত জীবনের মাঝবয়সে এসে এঁরা নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেন। তবে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এই সাফল্য হয় অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত।
স্বভাবের দিক থেকে এই জাতকরা অত্যন্ত দয়ালু এবং সংবেদনশীল হন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এঁরা সবসময় একপায়ে খাড়া। তবে এঁদের একটা বড় গুণ বা দোষ হল এঁরা মারাত্মক স্পষ্টবক্তা। পেটে এক আর মুখে আরেক, এমন স্বভাব এঁদের ডিকশনারিতে নেই। মনের কথা সোজা মুখে বলে দিতে দ্বিধা করেন না, যার ফলে অনেকেই এঁদের ভুল বোঝেন এবং শত্রুর সংখ্যা বাড়ে। তবে দিনশেষে, কড়া পরিশ্রম, সততা আর হার না মানা মানসিকতার জোরেই এঁরা সমাজে নিজেদের এক আলাদা ও সম্মানজনক স্থান তৈরি করে নেন বলে জানাচ্ছেন সংখ্যাতত্ত্ববিদরা