
শ্রাবণ মাস (Shravan month) পড়তেই মন্দিরে মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড়। দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে কেউ ভাং-ধুতরো আনছেন, তো কেউ ঘটি ভরে জল আর দুধ ঢালছেন শিবলিঙ্গে। কিন্তু এই ভক্তির আবহেই লুকিয়ে থাকছে এক বড় ভুল! শহরের ব্যস্ত জীবনে খাঁটি গরুর দুধ মেলা ভার, তাই বেশিরভাগ মানুষই ভরসা করছেন বাজারের প্যাকেটজাত দুধে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, এই প্রক্রিয়াজাত দুধ শিবের মাথায় ঢালা কতটা যুক্তিযুক্ত? অজান্তেই কি অমঙ্গল ডেকে আনছেন পরিবারে?
শাস্ত্র কী বলছে?
শাস্ত্র মতে, পুজোয় ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিসই হওয়া চাই শুদ্ধ ও প্রাকৃতিক। তবে বাজারের প্যাকেটের দুধ বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও প্রিজারভেটিভের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। ফলে এর আসল গুণ ও শুদ্ধতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। শাস্ত্রবিদদের মতে, এই ধরনের প্রক্রিয়াজাত জিনিস শিবলিঙ্গে নিবেদন করা উচিত নয়। শ্রাবণ মাসেই হোক বা বছরের অন্য কোনও সময়ে, মহাদেবের অভিষেকের জন্য দেশি গরুর টাটকা, খাঁটি ও কাঁচা দুধই সবচেয়ে উপযুক্ত।
খাঁটি দুধ না পাওয়া গেলে কী করবেন?
যদি খাঁটি গরুর দুধ জোগাড় করা একদমই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তবে কী করণীয়? শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, সে ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে প্যাকেটের দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে:
সরাসরি ঢালবেন না: প্যাকেটের দুধ সরাসরি প্যাকেট কেটে শিবলিঙ্গে অর্পণ করবেন না।
ফুটিয়ে ঠান্ডা করুন: প্রথমে দুধ ভালো করে ফুটিয়ে নিন। তারপর তা সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। গরম বা ইষদুষ্ণ দুধ কখনওই শিবলিঙ্গে ঢালা উচিত নয়।
বাসি দুধ এড়িয়ে চলুন: দুধ যেন বাসি না হয় বা কেটে না যায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
দেবদেবীদের মধ্যে মহাদেবকে প্রসন্ন করা সবচেয়ে সহজ। তিনি ভোলানাথ, সামান্য এক ঘটি জলেই তুষ্ট হন। তাই কৃত্রিম সামগ্রী দিয়ে পুজো না করে, শুদ্ধ মনে আরাধনা করাই শ্রেয়। উপাচারের জাঁকজমকের থেকে অন্তরের শ্রদ্ধাই ভোলানাথের কৃপালাভের মূল চাবিকাঠি।