
রথযাত্রা (Rath Yatra) মানেই আপামর বাঙালির কাছে এক পরম আনন্দের উৎসব। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ধুমধাম করে পালিত হয় এই পুণ্য উৎসব। চলতি বছরে আজ, অর্থাৎ ১৬ জুলাই দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে রথযাত্রা। জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাওয়ার এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। বিশ্বাস করা হয়, রথের দিন যদি ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের দর্শন করা যায়, তবে জীবনের সমস্ত কষ্ট ও দুর্যোগ নিমেষেই কেটে যায়। তবে শুধু দর্শনই নয়, জ্যোতিষশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র তিথিতে যদি অত্যন্ত সাধারণ কয়েকটি জিনিস বাড়িতে কিনে আনেন, তবে সংসারের ভোল বদলে যেতে পারে। খোদ মহালক্ষ্মী ও জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে খুলে যাবে সৌভাগ্যের বন্ধ দরজা।
রথযাত্রার এই শুভ দিনে কোন চারটি জিনিস আপনার ঘরে নিয়ে আসবে সুখ-সমৃদ্ধি? জেনে নিন তালিকাটি:
রথের কাঠ: পুরীর জগন্নাথদেবের রথ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় পবিত্র নিমকাঠ। রথযাত্রার দিন যদি ভাঙা রথের কাঠের একটি ছোট টুকরোও জোগাড় করে এনে বাড়িরর ঠাকুরঘরে বা সিংহাসনে রেখে দেওয়া যায়, তবে তা অত্যন্ত শুভ ফল দেয়। বিশেষ করে তা যদি পুরীর রথের কাঠ হয়, তবে তো কথাই নেই! ঘরে কোনও নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না।
পবিত্র চাল: রথযাত্রায় জগন্নাথদেবকে চাল নিবেদন করার একটি প্রাচীন রেওয়াজ রয়েছে। যদি বড় কোনও উৎসবের রথ থেকে এমন চাল সংগ্রহ করা যায়, তবে তা অত্যন্ত পবিত্র। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে আজই দোকান থেকে কিছুটা ভালো গোবিন্দভোগ চাল কিনে এনে একটি পাত্রে করে ঠাকুরঘরে রেখে দিন। উল্টোরথ শেষ হয়ে গেলে সেই চাল কোনও পবিত্র নদী বা জলাশয়ে ভাসিয়ে দিতে হবে।
বেতের ছড়ি: পুরীর রথযাত্রায় বেতের ছড়ি দিয়ে ভক্তদের আশীর্বাদ করার নিয়ম রয়েছে। মনে করা হয়, এই ছড়ির মধ্যেই দেবী লক্ষ্মী অবস্থান করেন। তাই রথের দিন বাজার থেকে একটি ছোট বেতের ছড়ি কিনে এনে বাড়ির রথে বা সিংহাসনে রাখলে সংসারে কোনও দিন অর্থকষ্ট ভোগ করতে হয় না।
তুলসীমালা: জগন্নাথদেবের অত্যন্ত প্রিয় হল তুলসী। তাই এই শুভ দিনে বাজার থেকে একটি নতুন তুলসীমালা কিনে এনে ঠাকুরের আসনে উৎসর্গ করুন। শাস্ত্র মতে, এতে ঘরের সমস্ত বাস্তুদোষ কেটে যায় এবং পজিটিভ এনার্জিতে ভরে ওঠে চারপাশ।