
বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) মতে, বিয়ে কেবল দুটি মনের মিলন নয়, এ হল এক সাত জন্মের অটুট বাঁধন। কিন্তু চার হাত এক হওয়ার পর কি সত্যিই জীবনটা স্বপ্নের মতো সুন্দর থাকে? বর্তমানের চূড়ান্ত ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে বিয়ের পর হানিমুনের রেশ কাটতে না কাটতেই অনেক দম্পতির সংসারে ভাঙন ধরে। ছোটখাটো অশান্তি থেকে জল গড়ায় আদালত বা বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও বোঝাপড়া ঠিক থাকার পরেও শুধু শোওয়ার ঘরের মারাত্মক কিছু বাস্তু ত্রুটির কারণে সম্পর্কে ফাটল ধরে। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই কিন্তু নববিবাহিতরা নিজেদের জীবনে প্রেম আজীবন অটুট রাখতে পারেন।
কোন দিকে হবে ভালোবাসার নীড়?
নতুন দম্পতিদের শোওয়ার ঘর সবসময় বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে হওয়া অত্যন্ত শুভ। বাস্তু বলছে, এই দিকটিকে দাম্পত্য জীবনে প্রেম ও শারীরিক আকর্ষণ বৃদ্ধির প্রধান দিক হিসেবে ধরা হয়। এই কোণে সংসার পাতলে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মধুর সম্পর্ক বজায় থাকে। তবে শুধু ঘরের দিক ঠিক হলেই চলবে না, ঘুমনোর সময় মাথা কোন দিকে থাকছে সেটাও ভীষণ জরুরি। ভুলেও স্বামী-স্ত্রী দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে মাথা রেখে ঘুমোবেন না। মাথা সঠিক দিকে রাখলে সংসারে যেমন শান্তি ফেরে, তেমনই অভাবনীয় অর্থপ্রাপ্তির যোগও তৈরি হয়।
কেমন খাট বাছবেন? কী রাখবেন না?
আজকাল ইন্টিরিয়র ডিজাইনের চক্করে অনেকেই লোহা বা অন্য কোনও ধাতুর তৈরি আধুনিক খাট কেনেন। বাস্তুশাস্ত্র কিন্তু স্পষ্ট জানাচ্ছে, সদ্য বিবাহিতদের বিছানা বা খাট কোনও ধাতুর হওয়া উচিত নয়। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি তো বাড়েই, সঙ্গে মারাত্মক অর্থহানিরও আশঙ্কা থাকে। তাই বর্গাকার (Square) কাঠের বিছানায় ঘুমনো সবথেকে ভালো। এতে জীবনে সুখ ও আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি দুই-ই আসে। আর একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, খাটের ওপর কখনও কোনও উপহারের বাক্স বা রান্নার বাসনপত্র জমিয়ে রাখবেন না। এই সাধারণ ভুলটি আপনাদের বিবাহিত জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
দেওয়ালের রং বাছাই
নতুন দম্পতিদের ঘরের দেওয়ালে গাঢ় নীল বা কালোর মতো শেড ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। এই রংগুলি ঘরে নেতিবাচক শক্তি টেনে আনে এবং অকারণ ঝগড়ার জন্ম দেয়। তাই ঘরের দেওয়ালে সবসময় হালকা ও স্নিগ্ধ রং করা উচিত।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, বাস্তু তখনই ভালো কাজ করবে যখন আপনাদের নিজেদের স্বভাব ঠিক থাকবে। সংসারে সুখ ধরে রাখতে হলে কথায় কথায় মাথা গরম করা বা অকারণ তর্ক করা বন্ধ করতে হবে। নিজেদের ইগো সরিয়ে রেখে একে অপরকে বুঝলে তবেই সম্পর্ক সুন্দর হয়ে উঠবে।