
শ্রাবণ মাস মানেই শিবভক্তদের কাছে এক আলাদা উন্মাদনা আর ভক্তি। ভোর থেকেই শিবমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। হাতে থাকে গঙ্গার জল আর বেলপাতা। কিন্তু এ বছর পুজোর শুরুতেই সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে এক বিরাট প্রশ্ন। পঞ্জিকা দেখে অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন, কারণ পুজো শুরুর দিন সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে ‘ভদ্রা’। শাস্ত্র মতে এই ভদ্রার সময়ে কোনও শুভ কাজ করতে বারণ করা হয়। তবে কি ভদ্রার ছায়ায় বদলে যাবে জলাভিষেকের সময়? মাঝপথেই কি থমকে যাবে ভোলেবাবার আরাধনা? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও নিয়ম?
পঞ্জিকার হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের শ্রাবণ শিবরাত্রি পালিত হবে আগামী ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার। আর এই বিশেষ দিনেই সকাল ৫টা ৪৮ মিনিট থেকে দুপুর ৩টে ২২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে ভদ্রার ছায়া। দিনের অর্ধেকটা সময় ভদ্রায় ঢাকা থাকায় সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাধারণত বিয়ে, গৃহপ্রবেশ কিংবা নতুন ব্যবসা শুরু করার মতো শুভ কাজ ভদ্রার সময় করা একেবারেই নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়।
কিন্তু মহাদেবের পুজোর ক্ষেত্রে কি এই নিয়ম সত্যি খাটে? পণ্ডিত ও শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ভক্তদের অযথা ভয় পাওয়ার একদম প্রয়োজন নেই। সাধারণ সামাজিক অনুষ্ঠান বা মাঙ্গলিক কাজের সঙ্গে শিবপুজোর নিয়ম পুরোপুরি আলাদা। শিবপুরাণ ও হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, ভগবান শিব হলেন স্বয়ং কালের অধিপতি। তাই তাঁর পুজো, জপ কিংবা জলাভিষেকের ওপর ভদ্রার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।
এর আসল কারণ হল, ভদ্রার সময় কেবল সামাজিক শুভ কাজ আটকায়, ঈশ্বর আরাধনা নয়। তাই কোনও ভক্ত যদি ১১ আগস্ট সকাল থেকেই শিবলিঙ্গে জল বা দুধ নিবেদন করতে চান, তবে তিনি নিশ্চিন্তে তা করতে পারেন। এর জন্য দুপুর পেরিয়ে ভদ্রা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করার বিন্দুমাত্র দরকার নেই।
তাছাড়া ওই দিন তিথিতে দারুণ কিছু শুভ যোগও থাকছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত থাকবে সিদ্ধি যোগ। সেই সঙ্গে সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত পুনর্বসু নক্ষত্র এবং তার পর শুরু হবে অত্যন্ত পবিত্র পুষ্যা নক্ষত্র। তাই সব নিয়ম মেনে, নিজের মনে ভক্তি রেখে ভোলেবাবার মাথায় জল ঢাললে মিলবে পূর্ণ ফল। মনে কোনও সন্দেহ না রেখে নিষ্ঠা ভরে মন প্রাণ সঁপে দিন শিবের চরণে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যগুলি সাধারণ প্রচলিত বিশ্বাস এবং ধর্মীয় রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। টিভি৯ বাংলা এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা সত্যতা নিশ্চিত করে না।