
মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে কম-বেশি সকলেই একটা কাজ করে থাকেন। তা হল, ঠাকুর দর্শনের পর মন্দিরের সিঁড়িতে কিছুক্ষণ হাত জোড় করে বসা। অনেকে আবার মন্দিরে ঢোকার আগেই সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম জানান। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, এই সামান্য অভ্যাসের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক রহস্য? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরের সিঁড়িতে বসা অত্যন্ত শুভ হতে পারে, আবার সামান্য ভুলের কারণে তা ডেকে আনতে পারে চরম অমঙ্গল।
শাস্ত্র মতে, একটি মন্দিরের সামগ্রিক গঠনকে আসলে সাক্ষাৎ দেবমূর্তির শরীরের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরের চূড়া হল ঈশ্বরের মুখমণ্ডলের প্রতীক, আর মন্দিরের সিঁড়িকে মনে করা হয় ভগবানের ‘চরণপাদুকা’ বা পদযুগল। ঠিক এই কারণেই মন্দিরে প্রবেশের আগে সিঁড়ি স্পর্শ করে প্রণাম করার রীতি রয়েছে। মনে করা হয়, দেবতার চরণের কাছে বসে প্রার্থনা করলে মনের আকুতি ঈশ্বরের দরবারে অনেক দ্রুত পৌঁছয়।
তবে দেবদর্শনের পর সিঁড়িতে বসার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না। সিঁড়িতে বসে আপনি কী করছেন বা কী ভাবছেন, তার ওপর নির্ভর করে আপনার শুভ বা অশুভ ফল। পুজো শেষ করে সিঁড়িতে শান্ত হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ভগবানের নাম স্মরণ করলে বা ধ্যান করলে মন শান্ত হয়, জীবনে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে। এমনকী এই সময় একটি বিশেষ শ্লোক পাঠ করার বিধানও রয়েছে শাস্ত্রে—
‘অনায়াসেন মরণম, বিনা দৈন্যেন জীবনম।
দেহান্ত তব সানিধ্যম, দেহি মে পরমেশ্বরম।’
এই শ্লোকের গভীর অর্থ হল, হে ঈশ্বর, জীবনে যেন কখনও কষ্টভোগ করে মরতে না হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় যেন জীবনের শেষ দিনটি আসে এবং মৃত্যুর পর যেন তোমার পরম সান্নিধ্য লাভ করতে পারি।
কিন্তু সাবধান! এই পবিত্র স্থানে বসে যদি আপনি সংসারের কূটকচালি, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি কিংবা অন্যের পরনিন্দা-পরচর্চায় মেতে ওঠেন, তবে লাভের চেয়ে লোকসান হবে অনেক বেশি। মন্দিরকে অত্যন্ত পবিত্র ও পজিটিভ এনার্জির কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। সেখানে বসে নেতিবাচক আলোচনা করলে জীবনের ওপর তার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তাই এবার থেকে মন্দিরে গেলে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?