
হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যে অমাবস্যা সোমবার পালিত হয়, সেই অমাবস্যাকে সোমবতী অমাবস্যা বলা হয়। সোমবতী অমাবস্যা বছরে প্রায় একবার বা দুবার পড়ে। তাই এর গুরুত্ব রয়েছে অনেকটাই। হিন্দু ধর্মে এই অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় সোমবতী অমাবস্যার দিনে উপবাস রাখেন। এছাড়া জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই বছর সোমবতী অমাবস্যা পালিত হবে ২০ ফেব্রুয়ারি,সোমবার। এই তিথির অধিপতিকে পিত্র হিসাবে ধরা হয়। তাই এ দিনে স্নান করলে পিতৃদোষ, কালসর্প দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পূর্বপুরুষের কৃপায় পরিবারে সমৃদ্ধি আসে।
ফাল্গুন সোমবতী অমাবস্যার মুহুর্ত
শুরুর তারিখ – ১৯ ফেব্রুয়ারি, সময় – ৪টে ২০ মিনিট
সমাপ্ত হবে- ২০ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১২ টা ৩৫ মিনিট
পূজার মুহুর্ত – ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৫০ মিনিট থএকে বেলা ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত
শুভ যোগ
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এ বছরের ফাল্গুন অমাবস্যায় সোমবার ও শিব যোগের মিল রয়েছে। এ দিনে অমাবস্যার কারণে পূজা ও তর্পণ করলে দ্বিগুণ ফল পাওয়া যাবে। এই দিনে এই বিরল যোগ দুটোই মহাদেবকে উৎসর্গ করা হয়। গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এদিন তপস্যা, ধ্যান ও শ্রাদ্ধ করেন ভক্তরা।
পুজোবিধি
– সোমবতী অমাবস্যার দিন পূর্বপুরুষদের নামে জলে তিল রেখে দক্ষিণ দিকে তর্পণ করতে হবে। এ দিনে নৈবেদ্য হিসেবে নিবেদন করলে পিতৃপুরুষদের তৃপ্তি হয় এবং তাঁরা আশীর্বাদ করেন।
– সোমবতী অমাবস্যার দিন অশ্বত্থ গাছের পুজো করুন। দুধ নিবেদন করে সাতবার প্রদক্ষিণ করুন। অশ্বত্থ গাছের নিচে প্রদীপ জ্বালান। পরিবারে সুখ আসে।
– ভগবান বিষ্ণু ছাড়াও সোমবতী অমাবস্যার দিনে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে গীতার সপ্তম অধ্যায় পাঠ করা উচিত।
– এ দিনে একটি অশ্বত্থ গাছ পুঁততে পারেন। এতে পিতৃপুরুষরা খুশি হন। আর্থিক কোনও সমস্যা তৈরি হয় না।