
জন্মসংখ্যা (Birth Number) আমাদের জীবনের অনেক গোপন কথাই বলে দেয়। প্রেমের ময়দানে নামার পরও কি বারবার হোঁচট খাচ্ছেন? অনেক চেষ্টা করেও মনের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুতেই টিকছে না? পরিস্থিতির দোহাই তো অনেক দিলেন, কিন্তু জানেন কি এই বার বার হৃদয় ভাঙার নেপথ্যে আসল ভিলেন হতে পারে আপনার জন্মসংখ্যা!
হ্যাঁ, সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমেরোলজি (Numerology) ঠিক এমনটাই বলছে। জ্যোতিষশাস্ত্রের এই বিশেষ শাখার দাবি, কোনও মানুষের স্বভাবের অনেক কিছুই নির্ভর করে তাঁর জন্মসংখ্যার ওপর। আর সেই স্বভাবই অনেক সময় প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এক থেকে নয়— কোন জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের প্রেমে কেন বারবার ভাঙন ধরে।
১, ২ এবং ৩ জন্মসংখ্যা:
যাঁদের জন্মসংখ্যা ১ (মাসের ১, ১০, ১৯ বা ২৮ তারিখে জন্ম), তাঁরা স্বভাবগতভাবেই নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসেন। এরা সহজে আপস করতে চান না। সঙ্গীকে কথায় কথায় নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রবণতাই অনেক সময় বিচ্ছেদ ডেকে আনে। অন্যদিকে, ২(২, ১১, ২০ বা ২৯) জন্মসংখ্যার মানুষেরা বড্ড বেশি সংবেদনশীল হন। এরা সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সেই আবেগের ভার বইতে না পেরে অনেক সময় সঙ্গী দূরে চলে যান। আবার ৩ (৩, ১২, ২১ বা ৩০ তারিখে জন্ম) জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকারা সম্পর্কের সব বিষয়কেই হাসিখুশিতে বা হালকা চালে উড়িয়ে দিতে চান। প্রেম নিয়ে এই উদাসীন মনোভাবই সঙ্গীকে বিরক্তির চরম সীমায় পৌঁছে দেয়।
৪, ৫ এবং ৬ জন্মসংখ্যা:
মনের গভীরের কথা মুখে বলতে সবচেয়ে বেশি হোঁচট খান ৪ (৪, ১৩, ২২ বা ৩১ তারিখে জন্ম) জন্মসংখ্যার মানুষেরা। নিজেকে গুটিয়ে রাখার এই স্বভাবের জন্য সম্পর্কে মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। আর স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ৫ (৫, ১৪ বা ২৩ তারিখে জন্ম) জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকারা আবার সম্পর্কে বাঁধা পড়তে বা প্রতিশ্রুতি (Commitment) দিতে ভীষণ ভয় পান। দায়িত্ব নেওয়ার এই অনীহাই সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয় না। যাঁদের জন্মসংখ্যা ৬ (৬, ১৫, ২৪ তারিখ):, তাঁরা সঙ্গীর খুব যত্ন নেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করার একটা সুপ্ত বাসনা থাকে। এই অধিকারবোধের কারণেই অনেক সময় তাঁরা নিজের অজান্তেই সম্পর্ক হারিয়ে বসেন।
৭, ৮ এবং ৯ জন্মসংখ্যা:
৭ (৭, ১৬ বা ২৫ তারিখে জন্ম) জন্মসংখ্যার মানুষেরা আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দেন। সঙ্গীর সূক্ষ্ম আবেগকেও যখন তাঁরা যুক্তি দিয়ে মাপতে যান, তখনই মনে আঘাত লাগে এবং শুরু হয় দূরত্ব। ৮ (৮, ১৭ বা ২৬ তারিখে জন্ম) জন্মসংখ্যার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল আধিপত্য বিস্তার। সম্পর্কে কে শেষ কথা বলবে, এই জেদই অনেক সময় সুন্দর একটি সম্পর্ককে খাদের কিনারে নিয়ে যায়। সবশেষে, ৯ (৯, ১৮ বা ২৭ তারিখে জন্ম) জন্মসংখ্যার মানুষেরা পুরনো রাগ বা অতীত কষ্ট কিছুতেই ভুলতে পারেন না। কথায় কথায় পুরনো ঝামেলা টেনে আনার এই বদভ্যাসই এঁদের জীবনে কখনও কখনও বার বার বিচ্ছেদ ডেকে আনে।