
বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুসারে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই বদলে দিতে পারে ভাগ্যের চাকা। সারাদিনের খাটুনি শেষে রাতে যখন আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যান, তখন অজান্তেই অনেকে এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা সংসারের পজিটিভ এনার্জি কেড়ে নেয়। জ্যোতিষ ও বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েকটি সহজ কাজ করলেই আমূল বদলে যেতে পারে জীবনের চালচিত্র। ঘুচে যেতে পারে চরম আর্থিক অনটন, এমনকি মিলতে পারে দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা।
সংসারের সুখ-সমৃদ্ধি ধরে রাখতে জলের ভূমিকা অপরিসীম। বাস্তুমতে, রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে বাথরুমে একটি বালতি পরিষ্কার জল ভরে রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। প্রাচীন লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই একটি অভ্যাস সংসারের আর্থিক টানাপোড়েন অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এর ফলে ঋণ বা ধারের মতো বড় সমস্যা থেকেও সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে খেয়াল রাখবেন, রান্নাঘরে কখনও খালি বালতি বা ফাঁকা পাত্র রেখে ঘুমোতে যাওয়া উচিত নয়। পাত্রে ভরা জল ঘরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটায়।
অনেকেরই অভ্যাস থাকে রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর আলসেমি করে এঁটো বাসন রান্নাঘরে ফেলে রাখা। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রে এই কাজকে চরম অশুভ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রাতের এঁটো বাসন ধুয়ে, রান্নাঘর একেবারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তবেই শুতে যান। কারণ, পরিচ্ছন্ন রান্নাঘরই ঘরে শুভ শক্তির পথ প্রশস্ত করে এবং লক্ষ্মীর আগমন ঘটায়।
বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার বা সদর দরজাকে পজিটিভ এনার্জি প্রবেশের প্রধান মাধ্যম ধরা হয়। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যায় মূল দরজার সামনে একটি প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে দরজার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা উচিত। মনে রাখবেন, সূর্যাস্তের পর পুরো বাড়ি কখনও অন্ধকার করে রাখা ঠিক নয়। বিশেষ করে সদর দরজা এবং ঘরের যেসব কোণে সবসময় অন্ধকার থাকে, সেখানে আলোর ছোঁয়া থাকলে নেতিবাচক শক্তি বিদায় নেয়।
(যদিও এই সমস্ত বিষয়ের কোনও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও যুগের পর যুগ ধরে বহু মানুষের বিশ্বাসে এই প্রথাগুলি জড়িয়ে গিয়েছে। নিয়ম মেনে চলা, পরিচ্ছন্নতা এবং ঘরের শৃঙ্খলা বজায় রাখাই সংসারে মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার আসল চাবিকাঠি।)