
তালা-চাবি (Keys) ছাড়া জীবন অচল। কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ চাবির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সংসারের শ্রী আর সমৃদ্ধির চাবিকাঠি? বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুসারে, চাবি শুধু আলমারি বা সদর দরজার লক খোলার মাধ্যম নয়, এটি মা লক্ষ্মীর আগমন এবং সৌভাগ্যেরও প্রতীক। অসতর্কভাবে চাবি যেখানে-সেখানে ফেলে রাখলে যেমন চুরির ভয় থাকে, তেমনই বাস্তুর ভুলে রুষ্ট হতে পারেন ধনদেবী। ফলে সংসারে পজিটিভ এনার্জির বদলে বাসা বাঁধে নেতিবাচক শক্তি, আর বিনা কারণেই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। বাস্তুবিদদের মতে, ঘরের চাবি রাখার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা মেনে চললে এড়ানো যায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতি।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, চাবি রাখার জন্য ঘরের পশ্চিম দিক হল সবচেয়ে আদর্শ এবং শুভ। কারণ এই দিকটিকে লাভের দিক বা প্রাপ্তির স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি পশ্চিম দিকে উপযুক্ত জায়গা না মেলে, তবে উত্তর-পশ্চিম কোণকেও বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে ভুলেও ঘরের উত্তর বা পূর্ব দিকে ভারী চাবির গোছা রাখবেন না। কারণ, উত্তর দিক হল ধনকুবেরের এবং পূর্ব দিক সূর্যের শক্তির প্রতীক। এই দুই পবিত্র দিকে চাবি রাখলে পজিটিভ এনার্জির প্রবাহে বড় বাধা তৈরি হয়।
অনেকেরই অভ্যাস থাকে বাইরে থেকে ফিরেই বসার ঘরের টেবিল কিংবা সোফায় চাবির গোছা ছুঁড়ে ফেলা। এই ভুলটি কিন্তু মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ড্রয়িং রুমে আসা বাইরের অতিথিদের নজর সরাসরি চাবির ওপর পড়া মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। এতে ঘরের সুরক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নজর লাগার আশঙ্কা বাড়ে। একই কারণে রান্নাঘর বা ডাইনিং টেবিল, যা অত্যন্ত পবিত্র ও অন্নপূর্ণার স্থান হিসেবে পরিচিত, সেখানেও চাবি রাখা নিষিদ্ধ। আবার সারাদিন নানা নোংরা হাতে চাবি ধরা হয় বলে ঠাকুরঘরে চাবি রাখা একেবারেই বাস্তুসম্মত নয়।
সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে চাবির রিং বা কি-চেইনের ভূমিকাও কিন্তু কম নয়। বাস্তুমতে, প্লাস্টিককে খুব একটা শুভ উপাদান মনে করা হয় না। তাই প্লাস্টিকের কি-চেন এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর বদলে তামা বা কাঠের তৈরি রিং ব্যবহার করা দারুণ ফলদায়ী। কি-চেনে যদি ওম, স্বস্তিক, কচ্ছপ বা লাফিং বুদ্ধের মতো শুভ প্রতীক থাকে, তবে তা ঘরের পজিটিভ ভাইব বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, বাড়িতে কোনও মরচে ধরা, ভাঙা বা অব্যবহৃত চাবি জমিয়ে রাখবেন না। এগুলি রাহুর নেতিবাচক প্রভাব বাড়িয়ে অমঙ্গল ডেকে আনে বলে জানাচ্ছেন বাস্তুবিদরা।