
বাস্তু শাস্ত্র (Vastu Shastra) এবং সনাতন ধর্মে মানুষের জীবনযাত্রাকে সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। শাস্ত্র মতে, গোটা দিনের ২৪ ঘণ্টাকে আলাদা আলাদা প্রহরে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও পবিত্র সময়টি হল ‘প্রদোষ কাল’ বা সূর্যাস্তের সময়। সারাদিনের তীব্র দৌড়ঝাঁপের পর ঠিক যখন সূর্য অস্ত যায়, তখন অনেকেরই ক্লান্তি এসে ভর করে চোখে। চট করে বিছানায় একটু গা এলিয়ে দেওয়ার এই অভ্যাস কিন্তু অজান্তেই বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোধূলি লগ্নে বা সূর্যাস্তের ঠিক পর মুহূর্তেই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস মোটেও শুভ নয়।
কিন্তু কেন এই বিশেষ সময়ে ঘুমের ওপর জারি রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা? সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্ধ্যাবেলা হল ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আগমনের সময়। এই সন্ধিক্ষণে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো, ঈশ্বরের আরাধনা করা এবং মন শান্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। মনে করা হয়, এই সময় সজাগ থেকে ঈশ্বরের নাম নিলে ঘর ইতিবাচক শক্তিতে ভরে ওঠে। ঠিক এই সময়টায় যদি কেউ অলসের মতো ঘুমিয়ে থাকেন, তবে জীবন থেকে শুভ শক্তি দূরে সরে যায়। এর ফলে কাজের এনার্জি ও মানসিক উৎসাহ তলানিতে গিয়ে ঠেকে। দৈনিক কাজকর্মের প্রতি তৈরি হয় চরম অনীহা, যা পরোক্ষভাবে আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাস্তুবিদদের মতে, সূর্যাস্ত হল দিন এবং রাতের মিলনের এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ। এই সময় প্রকৃতিতে এক বড় পরিবর্তন ঘটে। এই বিশেষ মুহূর্তে জেগে থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুসময় কাটানো বা ধ্যান করা মনের ক্লান্তি দূর করে। বিজ্ঞান অবশ্য একে সরাসরি আধ্যাত্মিক নিয়মের ফ্রেমে বাঁধে না, তবে গোধূলি বেলায় ঘুমোলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বা বায়োলজিক্যাল ক্লক বিঘ্নিত হতে পারে। এর জেরে রাতে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।
তবে এই নিয়ম কি সবার জন্য প্রযোজ্য? একেবারেই নয়। এটি মূলত প্রচলিত বিশ্বাস ও বাস্তুর নিয়মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যদি কোনও ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ থাকেন, কিংবা চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ থাকে বিশ্রামের, তবে তিনি নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে অবশ্যই এই সময়েও বিশ্রাম নিতে পারেন। আবার যাঁদের কাজের শিফট আলাদা, তাঁদের রুটিন সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। তাই শরীর সুস্থ থাকলে অলসতা কাটিয়ে এই সময়টুকু সজাগ থাকাই জীবনের উন্নতির জন্য শ্রেয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।