
সারাদিনের খাটুনি শেষে এক থালা গরম ভাত কিংবা পছন্দের বিরিয়ানি নিয়ে বিছানায় এলিয়ে পড়ার মজাই আলাদা। আবার অনেকে তো বিছানায় শুয়ে ল্যাপটপে সিনেমা দেখতে দেখতেই নৈশভোজ সারতে পছন্দ করেন। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, আপাতদৃষ্টিতে আরামদায়ক মনে হওয়া এই অভ্যাসটিই কিন্তু আপনার জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অজান্তেই এই ছোট্ট ভুলটি নষ্ট করে দিচ্ছে আপনার ঘরের পজিটিভ এনার্জি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আপনার ভাগ্য এবং শরীরে।
কেন বিছানায় বসে খাওয়া ডেকে আনে অমঙ্গল?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকা জরুরি। বিছানা মূলত বিশ্রাম এবং ঘুমের জায়গা। সেখানে বসে নিয়মিত খাবার খেলে খাবারের কণা, তেল-ঝোল বা অবশিষ্টাংশ বিছানায় পড়ে নোংরা তৈরি করে। এর ফলে ঘরের অন্দরে নেগেটিভ এনার্জি বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব হু হু করে বাড়তে শুরু করে।
জ্যোতিষশাস্ত্রেও এই অভ্যাসকে তীব্র অলক্ষুণে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে, বিছানায় বসে খেলে রাহু ও কেতুর মতো ছায়াগ্রহের অশুভ দৃষ্টি পড়ে মানুষের ওপর। যার জেরে জীবনে দেখা দিতে পারে মারাত্মক কিছু সমস্যা:
মানসিক অশান্তি: অকারণ দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, অস্থিরতা এবং যেকোনো কাজে বারবার বাধা আসা।
আর্থিক ক্ষতি: বাস্তু মতে, এই অভ্যাসের কারণে সংসারের বরকত চলে যায়। অযথা খরচ বাড়ে এবং উপার্জিত অর্থ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্লান্তি ও অনিদ্রা: শোওয়ার জায়গায় সেখানেই খেলে মস্তিস্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে পর্যাপ্ত ঘুমনোর পরেও শরীরের ক্লান্তি দূর হতে চায় না।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরের ওপর প্রভাব
শুধু বাস্তু বা জ্যোতিষ নয়, চিকিৎসকরাও কিন্তু বিছানায় বসে বা আধশোয়া হয়ে খাওয়ার অভ্যাসের ঘোর বিরোধী। চিকিৎসকদের মতে, সোজা হয়ে না বসে খেলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। ফলে গ্যাস, অম্বল, অ্যাসিডিটি বা বদহজমের মতো ক্রনিক সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে অলসতা আরও জাঁকিয়ে বসে।
দুর্ভাগ্য এড়াতে কী করবেন?
বাস্তুর দোষ কাটাতে এবং সুস্থ থাকতে আজই এই অভ্যাস বদলান:
ভাগ্য ফেরাতে এবং শরীর চনমনে রাখতে আজ থেকেই বিছানা চাদর রাখুন পরিষ্কার, আর খাবার টেবিলকে করুন আপন।