
জুতো পরে সবে দরজার হাতলে হাত দিয়েছেন, অমনি পেছন থেকে মা হাঁক পাড়লেন, “কী রে, মানিব্যাগটা নিয়েছিস তো?” ব্যস! সঙ্গে সঙ্গে পাশ থেকে দিদিমা চোখ বড় বড় করে বলে উঠলেন, “যাঃ! বেরোনোর মুখে কেউ এভাবে পেছন থেকে ডাকে? অযাত্রা হয়ে গেল!”
প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কখনও না কখনও এমন কাণ্ড ঘটেছে। বেরোনোর ঠিক মুখে পেছন থেকে কেউ ডাকলেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! অনেকেই এটাকে স্রেফ সেকেলে কুসংস্কার বা বুজরুকি বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু জানেন কি, প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি আর শকুন শাস্ত্রে এর পেছনে রয়েছে ব্যাখ্যা? আর সেখানে মূল ভিলেন হিসেবে হাজির রয়েছে রহস্যময় ছায়া গ্রহ, রাহু (Rahu)!
কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
যেকোনও ভালো বা জরুরি কাজে যাওয়ার সময় মানুষের মন শান্ত থাকা সবচেয়ে বেশি দরকার। মন যদি পুরো উদ্যম নিয়ে লক্ষ্যের দিকে স্থির থাকে, তবে সাফল্য পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু ঠিক বেরোনোর মুহূর্তে কেউ পেছন থেকে আচমকা ডাকলে বা থামিয়ে দিলে সেই মনোযোগ এক লহমায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায়। মনে অজান্তেই তৈরি হয় বিরক্তি, দ্বিধা আর ভয়। এই সামান্য মানসিক অস্থিরতাই গুরুত্বপূর্ণ কাজের বড় ক্ষতি করে দিতে পারে। সেই বিভ্রান্তি এড়াতেই প্রাচীন কাল থেকে পেছন থেকে ডাকতে বারণ করা হয়।
রাহুর প্রভাব
জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহুকে বলা হয় ছায়া গ্রহ। এর নিজস্ব কোনও দৃশ্যমান শরীর নেই, কিন্তু মানুষের মনের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক। জ্যোতিষের বিশ্বাস অনুযায়ী, রাহু মানুষের মাথায় বিভ্রান্তি, ভুলভাল চিন্তা আর হঠাৎ করে আসা বাধা তৈরি করে।
জরুরি কাজে যাওয়ার মুখে পেছন থেকে অপ্রত্যাশিত ডাক শোনাকে রাহুর নেতিবাচক শক্তির সংকেত হিসেবে ধরা হয়।
এতে চলার স্বাভাবিক ছন্দ হঠাৎ থমকে যায় এবং মনে অচেনা সংশয় তৈরি হয়।
রাহু যেহেতু হঠাৎ ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত বিপদের কারক, তাই তৈরি হওয়া কাজ শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার ভয় থেকেই এই লোকবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোনও শুভ ও জরুরি পদক্ষেপে এগোনোর আগে মানুষের মন যাতে ভয় বা দ্বিধায় না দোলে, সেই ভাবনা থেকেই এই নিয়মের চল শুরু হয়েছিল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শুভ কাজে বেরনোর সময় পেছন থেকে না ডাকার এই নিয়মটি মূলত প্রাচীন লোকবিশ্বাস, ভারতীয় আচার-সংস্কৃতি এবং মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।