
সোমবারে শিবের পুজো (Shiv Puja), নবরাত্রির উপবাস কিংবা একাদশীর মতো পবিত্র দিনে অনেকের হেঁশেলের ছবিটাই বদলে যায়। সারা বছর যে সাদা লবণ ছাড়া রান্নার কথা ভাবতেই পারেন না, ব্রতের দিনটিতেই সেই লবণ ছোঁয়া বারণ অনেক বাড়িতে! তার জায়গায় রাজকীয় ভঙ্গিতে রান্নাঘরে এন্ট্রি নেয় সৈন্ধব লবণ (Rock Salt)। কিন্তু কেন বলুন তো? শুধুই কি ঠাকুমা-দিদিমাদের আমল থেকে চলে আসা প্রথা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর কোনও বিজ্ঞান ও শাস্ত্রীয় কারণ?
উত্তরটা কিন্তু বেশ চমকপ্রদ! ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, উপবাস পালনের মূল উদ্দেশ্য শুধু সারাদিন না খেয়ে থাকা নয়, বরং নিজের শরীর আর মনকে একদম ভেজালহীন ও শুদ্ধ রাখা। এবার ভাবুন তো, সৈন্ধব লবণ কীভাবে তৈরি হয়? এটি পাওয়া যায় সরাসরি হিমালয়ের পাথর বা খনি থেকে। প্রকৃতি এটাকে ঠিক যেভাবে উপহার দেয়, আমরা সেভাবেই পাতে তুলে নিই। না এটাকে রিফাইন করার জন্য কোনও কারখানায় ছুটতে হয়, আর না মেশাতে হয় কোনও কৃত্রিম কেমিক্যাল। তাই শাস্ত্রে এই অবিকৃত লবণকে ‘সাত্ত্বিক’ বা সবচেয়ে পবিত্র খাদ্যের তকমা দেওয়া হয়েছে।
এবার আসা যাক আমাদের রোজকার সাদা লবণের গল্পে। সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত করে এই লবণ তৈরি হয়। তবে গল্পটা এখানেই শেষ নয়। বাজারজাত করার আগে কারখানায় একে চকচকে করতে নানা রকম কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভ মেশানো হয়। তা ছাড়া শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মনে করা হয়, সমুদ্রের জল থেকে লবণ বের করার সময় অজস্র অনুজীবের প্রাণহানি ঘটে। তাই এই প্রক্রিয়াজাত সাদা লবণকে ব্রতের জন্য মোটেই উপযুক্ত মনে করা হয় না।
শারীরিক দিক থেকেও কিন্তু এর বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। কারখানার প্রক্রিয়াজাত সাদা লবণ পেটে গ্যাস, অস্বস্তিকর ভারী ভাব বা অলসতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, সৈন্ধব লবণ রক্তচাপ ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরকে চাঙ্গা রাখে। ব্রতের দিনে যখন শরীর হালকা থাকে, তখন পুজো-পার্বণে মনঃসংযোগ করা বা উপবাসের ধকল সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই এবার থেকে উপবাসের পাতে সৈন্ধব লবণ দেখলে বুঝবেন, এটা কেবল নিয়ম নয়, শরীর ভালো রাখার উপায়ও বটে!