Naswarupa Chakraborty World Record: অগ্নিবৃত্তে ণস্বরূপা, একপদ শিরাসন করে ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে পানিহাটির কিশোরী!

Book of World Records: নস্বরুপা নিজেও অদ্বিতীয়। কারণ , তাঁর সবুজ মণির চোখ, তাঁর রেকর্ড, তাঁর নাম - যা তাঁকে চেনা গন্ডির বাইরে এনে ফেলেছে। জেন-জি কিশোরীর স্বপ্ন ভবিষ্যতে একটি অ্যাকাডেমি খোলার। যেখানে নুন্যতম মূল্যে যোগাসন শেখানো হবে। কিন্তু বিদেশী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গুরুদক্ষিণার প্রণামী বেশি নিতে চান তিনি।

Naswarupa Chakraborty World Record: অগ্নিবৃত্তে ণস্বরূপা, একপদ শিরাসন করে ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে পানিহাটির কিশোরী!
ণশ্বরূপা চক্রবর্তীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: Moumita Das

Aug 11, 2026 | 4:16 PM

-সোমনাথ ব্যানার্জী

কলকাতা : আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ইন্সটাগ্রাম-ফেসবুক খুললেই দেখা যায় একটি বিখ্যাত উক্তি, ” স্বপ্ন সেটা নয়, “যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটা যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।” এই বিখ্যাত উক্তিটি যে আসলে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের, তা বলতে গেলে অনেক ‘জেন-জি’ থমকালেও, এই উক্তিকে একপ্রকার আত্মস্থ করে নিয়েছেন ণস্বরূপা চক্রবর্তী। সোদপুরের পিয়ারলেস নগরের বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী ণস্বরূপা ইতিমধ্যেই গড়ে ফেলেছেন একটি রেকর্ড। সম্পূর্ণ চোখ বন্ধ করে আগুনের বৃত্তে একপদ শিরাসন করে ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসে নিজের নাম তুলেছেন সোদপুর নারায়ণা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্রী।

যখন তাঁর বয়স মাত্র ৪, তখন থেকেই ক্রিকেট, ফুটবল, মায় ব্যাডমিন্টনের দিকে না ঝুঁকে যোগাকেই নিজের জীবনের মূল মন্ত্র করে নেন ণস্বরূপা। তাঁর কথায়,“যোগ আসলে মহাবিশ্বের সঙ্গে নিজেকে জুড়ে নেওয়ার এক যোগসূত্র। ছোট থেকেই আমার কোনও কোচ ছিল না। আমার প্রাক্তন স্কুল থেকে আমার যোগাসনের সঙ্গে পরিচয়। কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া আমি এই শিক্ষা নিয়েছি। কোনও ট্রেনিং, অ্যাকাডেমির শিক্ষা আমি নিইনি। আমার প্রথম স্কুল থেকে আমার যোগাসনের শিক্ষা নেওয়া শুরু হলেও পরবর্তীতে ইউটিউব দেখেও যোগাসন শিখেছি। কিন্তু আমি আগে নানাভাবে পড়তে শিখেছি। কিভাবে পড়লে কম ব্যথা হবে, সেটা না জানলে কেউই শিখতে পারবে না। কিন্তু আমি নিজে কাউকে ইউটিউব দেখে শেখার নির্দেশ দেব না।” সাফ স্বীকারোক্তি কিশোরীর।

 

কীভাবে জানা গেল এই রেকর্ড সম্পর্কে? ণস্বরূপা জানালেন, “প্রথমে আমি খবরের কাগজে জানতে পারি এই রেকর্ড বুকের সম্বন্ধে। তারপর স্কুলের নির্দেশনায় নিজের নাম, কাজ পাঠাই। কিন্তু প্রত্যেক রেকর্ডের জন্য নিজের ফিল্ডের একটি বিশেষ ফ্যাক্টর তুলে ধরতে হয়। আমার ইচ্ছে ছিল ৩০টি জ্বলন্ত মোমবাতির বৃত্তে বসে একপদ শীর্ষাসন করার কিন্তু সেই রেকর্ড যেহেতু ইতিমধ্যেই একজন করে ফেলেছেন, তাই আমার পক্ষে লড়াই একটু কঠিন হয়ে যায়। আমি ঠিক করি, চোখ বেঁধে নিজের মুখে চামচ রেখে তাতে আগুন জ্বালিয়ে আগুনের বৃত্তে বসব। এরপর প্রশিক্ষণ শুরু করি। প্রায় ১ মাস ধরে প্রশিক্ষণ করতে হয়। এমনকি উদ্যোক্তারা নিজেরাও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন আমার এই যোগাসন দেখে।” কিভাবে এই রেকর্ড সম্পন্ন হয়? ণস্বরূপার কথায়, “আমি এখানেই একটি হল ভাড়া করে সেখানে প্রশিক্ষকের সামনে এই যোগাসন করেছিলাম। কোচ এখানে প্রত্যক্ষদর্শীর ভূমিকায়।” ণস্বরূপার আগে যিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন, তাঁর সময় ছিল ৩৩ সেকেন্ড। সেই সময় পার করে ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ড ধরে এই যোগাসন করে বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম তুললেন ণস্বরূপা।

বয়স মাত্র ১৭, ইতিমধ্যেই অনেকে আত্মীয়-পরিজনদের চোখে সুপারস্টার হয়ে গিয়েছে ণস্বরূপা। যেসব আত্মীয়রা একদা যোগাসন নিয়ে মাতামাতি করতে বারণ করতেন, আজ সেই তাঁরাই ণস্বরূপার সাফল্যে মুগ্ধ। এই জেন-জি কিশোরীর স্বপ্ন ভবিষ্যতে একটি অ্যাকাডেমি খোলার। যেখানে নুন্যতম মূল্যে যোগাসন শেখানো হবে। কিন্তু বিদেশী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তুলনায় বেশি গুরুদক্ষিণা নিতে চান তিনি। এটাই তো এই নতুন জেনারেশনকে আলাদা করে পরিচিতি দেয়। যে জেনারেশন সবকিছু দেখে, বুঝে পা ফেলে। যে জেনারেশন জীবনের বাঁধাধরা ছক ভেঙে এগোতে চায়। এমনই এক জেনারেশনের সদস্য ণস্বরূপা নিজেও অদ্বিতীয়। কারণ, তাঁর সবুজ মণির চোখ, তাঁর রেকর্ড, তাঁর নাম – যা তাঁকে চেনা গন্ডির বাইরে এনে ফেলেছে। যা তাঁকে সোদপুর, পানিহাটির আকাশ ছাড়িয়ে এনে ফেলেছে এক অন্য মহাকাশে, যেখানে একটা আপ্তবাক্য়ই ভেসে বেড়ায় – স্কাই ইজ দ্য লিমিট…

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us