
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এ মরসুমে অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। সেরা ব্যাটিং আক্রমণ বনাম সেরা বোলিং! এ মরসুমে ব্যাটিংয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছে, গড়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অন্য দিকে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল রাজস্থান রয়্যালস। পয়েন্ট টেবলে শীর্ষস্থানে রয়েছে তারা। এখনও অবধি মাত্র একটি ম্যাচেই হার। প্লে-অফ কার্যত নিশ্চিত। আর একটা জয় মানে তাদের নামের পাশে Q লেখা বসিয়ে দেওয়া যায়। কেন এই ম্যাচকে সেরা ব্যাটিং বনাম বোলিং বলা হচ্ছে?
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক স্কোরের রেকর্ড ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দখলে। ২০১৩ সাল থেকে সেই রেকর্ড অক্ষত ছিল। এ বার ঘরের মাঠে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আরসিবিকে সরিয়ে সর্বাধিক স্কোরের রেকর্ড গড়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেখানেই ইতি নয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বাধিক এবং আইপিএলের রেকর্ডও গড়ে সানরাইজার্স। সেই রেকর্ড আরসিবির বিরুদ্ধেই। ২৮৭ রান করেছিল প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধানী সানরাইজার্স।
অন্য দিকে, রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং যেমন ধারাবাহিক, তাদের বোলিং আসল শক্তি। এ মরসুমে মাত্র এক ম্যাচে রাজস্থান বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ২০০ প্লাস স্কোর হয়েছে। সানরাইজার্স গত দু-ম্যাচেই হেরেছে। ঘরের মাঠে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হার। টানা দুটি হারে ১০ পয়েন্টের ট্রাফিক জ্যামে আটকে সানরাইজার্স। তাদের বোলিং বিভাগ ধারাবাহিক নয়। ব্যাটিং বিভাগ অবাক করেছিল সিএসকে ম্যাচে। ২১৩ রান তাড়ায় ১৩৪ রানেই অলআউট হয়েছিল সানরাইজার্স। তাদের আত্মবিশ্বাসে জোরালো ধাক্কা।
এ বারের আইপিএলে ছয় মারার প্রদর্শনী দেখা গিয়েছে সানরাইজার্সের ম্যাচে। ট্রাভিস হেড এবং হেনরিখ ক্লাসেনের কথা আলাদা করে বলতে হয়। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে অবশ্য এই কাজটা সহজ নয়। সানরাইজার্স ব্যাটিং যেমন বিধ্বংসী, রাজস্থান রয়্যালসে ট্রেন্ট বোল্টের মতো পাওয়ার প্লে পেসার রয়েছেন। ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেট নেওয়া অভ্যাসে পরিণত করেছেন বোল্ট। সন্দীপ শর্মা অনবদ্য বোলিং করছেন। স্পিন আক্রমণে যুজবেন্দ্র চাহাল।
রাজস্থান ব্যাটিং বিভাগও ছন্দে। বিশেষ করে বলতে হয় অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসনের কথা। ম্যাচ উইনিং পারফর্ম করেছেন জস বাটলার, যশস্বী জয়সওয়াল, রিয়ান পরাগ, ধ্রুব জুরেলরাও। রুদ্ধশ্বাস একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার অপেক্ষা।