T20 World Cup, IND vs WI: ভারতের কাঁটা ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

এপ্রিলের সন্ধেয় কলকাতা দেখেছিল ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। কার্লোস ব্রাথওয়েট পরপর চারটি ছক্কা হাঁকান বেন স্টোকসকে। আর একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের ইতিহাসে ওটাই ছিল অন্যতম সেরা ফাইনাল। এ বার শাই হোপের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে সেই দিন আবার ফিরিয়ে আনতে।

T20 World Cup, IND vs WI: ভারতের কাঁটা আনপ্রেডিক্টেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ!
Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Tapasi Dutta

Feb 28, 2026 | 1:06 PM

কলকাতা : ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবার ফিরছে ইডেন গার্ডেন্সে, ভারতের বিরুদ্ধে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে। ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালও হয়েছিল এই মাঠে। আর সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই ক্যারিবিয়ানরা চাইবে আবারও ‘ক্যালিপসো’ জাদু দেখাতে। সে বার ফাইনালে শেষ ওভারের আগে পর্যন্ত ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু নাটকীয় ভাবে স্ক্রিপ্ট বদলে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই রাত ছিল শুধু ট্রফি জয়ের গল্প নয়, ছিল স্নায়ুচাপ, নাটকীয়তায় ভরা আর স্ক্রিপ্ট ভেঙে দেওয়া এক দলের সাহসী কাহিনি।

এপ্রিলের সন্ধেয় কলকাতা দেখেছিল ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। কার্লোস ব্রাথওয়েট পরপর চারটি ছক্কা হাঁকান বেন স্টোকসকে। আর একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের ইতিহাসে ওটাই ছিল অন্যতম সেরা ফাইনাল। এ বার শাই হোপের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে সেই দিন আবার ফিরিয়ে আনতে। ছন্দের নিরিখে ফেভারিট ভারতই। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। ভারত ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়ে দিয়েছে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২৫৬ রান করে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকা নিলে ভুল হবে।

ভারতের ম্যাচের তিন দিন আগেই জিম্বাবোয়েকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় হারের পরই ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমেদাবাদে ১৭৬ রান তুলেছিল তারা। বোলিংয়েও বিশেষ ছাপ রাখতে পারেনি। এইডেন মার্কব়্যামের ৪৬ বলে অপরাজিত ৮২ রানের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬.১ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দেয়। তাও হোপদের হালকা নিলে মারাত্মক ভুল হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিস্ফোরক দল যেমন, ধারাবাহিক খুব যে, তা বলা যাবে না। কিন্তু যে কোনও সময় পাল্টে দিতে পারে ম্যাচের রং। এটাই ইউএসপি ক্যারিবিয়ান টিমের।

তিন নম্বরে নামা সিমরন হেটমায়ার দারুণ ছন্দে। তিনি সেট হলে কয়েক ওভারেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। রয়েছেন বিধ্বংসী ফর্মে থাকা শেরফান রাদারফোর্ড। রভম্যান পাওয়েল, রোমারিও শেফার্ডরাও খেলা বদলে দিতে সক্ষম। এই কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিপজ্জনক। অন্যদিকে ব্রেন্ডন কিং, হোপ, রস্টন চেডরা ইনিংস গড়ার কাজ করেন। বড় হিটাররা ব্যর্থ হলে তাঁরাই ভিত তৈরি করে দেন দলের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ট্র্যাজেডি, অধিকাংশ দিন ব্যাটিং ক্লিক করে না। কিন্তু যেদিন করে, সেদিন তারাই বিশ্বের সেরা দল।

গত ১০ বছর আগে ইডেন বহু নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী। ২০১৬ ফাইনাল ছাড়াও আইপিএলে পাঞ্জাব কিংস বনাম কেকেআর-এর ২৬১ রানের ম্যাচ কিংবা জস বাটলারের ঝোড়ো শতরান— ইডেন বরাবর নাটকীয়তা পছন্দ করে। এই বিশ্বকাপে ইডেনে ইতিমধ্যেই দুটি ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড ও ইতালির বিরুদ্ধে। স্কটল্যান্ড ম্যাচে হেটমায়ার ও শেফার্ডের দাপটে ৩৫ রানে জয় পায় তারা। শেফার্ড হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় অস্ত্র হতে পারে স্পিন। আকিল হোসেন, গুডাকেশ মোটি ও চেজ দলের নিয়মিত স্পিনার। ভারতীয় ব্যাটারদের স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দুর্বলতা মাথায় রেখে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হতেই পারে। তবে সমস্যাও আছে। কিং ও হোপ দুই ওপেনার সবসময় আগ্রাসী শুরু দিতে পারেন না। পেসার সামার জোসেফ এখনও সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেকে পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারেননি। তবুও এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম।

নিজেদের মাঠে গত বিশ্বকাপে হোঁচট খাওয়ার পর যদি তারা ইডেনে আয়োজক ভারতকে ছিটকে দিতে পারে, সেটাই হবে বদলার নিখুঁত নকশা। ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ স্রেফ অঙ্ক দিয়ে মাপা যাবে না। রোমাঞ্চ থাকবে। থাকবে তারকাদের ঝলসানি। চার-ছয়ের বন্যা। এ সবের মাঝে কেউ একজন নায়ক হয়ে উঠবেন। ক্যারিবিয়ান টিম ইডেনে সেই স্বপ্নই দেখছে।