CWG 2026: রোনাল্ডোকে অনুসরণ করেই কমনওয়েলথে সোনা, আবেগঘন স্বীকারোক্তি অস্মিতা দে-র!

Asmita Dey: অস্মিতার নিজের জীবনেও সংগ্রাম কম হয়নি। তাঁর বাবা অর্জুন দে ছিলেন একজন সাইকেল মিস্ত্রি। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকা রোজগারে চলত তাঁদের সংসার। সেই সামান্য আয়ের মধ্যেও মেয়ের খেলাধুলোর স্বপ্নপূরণে কোনও খামতি রাখেননি তিনি।

CWG 2026: রোনাল্ডোকে অনুসরণ করেই কমনওয়েলথে সোনা, আবেগঘন স্বীকারোক্তি অস্মিতা দে-র!
যখন রোনাল্ডোই আইডল অস্মিতার। Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Aug 04, 2026 | 7:17 PM

গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ইতিহাস গড়েছেন ভারতের জুডোকা অস্মিতা দে। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে কানাডার হেইডি কোয়াচকে হারিয়ে সোনার পদক জিতেছেন অস্মিতা। তিনিই প্রথম ভারতীয় জুডোকা, যিনি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেন। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, রয়েছে এমন একজন মানুষের কথা, যিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোটা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে আইডল। যাঁর প্রত্যেকটা পদক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয় মুহূর্তে।

তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে শোচনীয়ভাবে বিদায় নিয়েছেন সিআর সেভেন। বিশ্বকাপ আর জেতা হল না তাঁর। কিন্তু তাঁর ভক্ত অস্মিতা পেয়েছেন সোনা। হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। সোনি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী এই বাঙালি মেয়ে জানান, জীবনের কঠিন সময়ে তিনি রোনাল্ডোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি সবথেকে বেশি যাঁর সম্পর্কে পড়ি ও দেখি, তিনি সিআর সেভেন। জীবনে অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের বাবাকে হারিয়েছেন রোনাল্ডো। তবুও আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”

যদিও অস্মিতার নিজের জীবনেও সংগ্রাম কম হয়নি। তাঁর বাবা অর্জুন দে ছিলেন একজন সাইকেল মিস্ত্রি। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকা রোজগারে চলত তাঁদের সংসার। সেই সামান্য আয়ের মধ্যেও মেয়ের খেলাধুলোর স্বপ্নপূরণে কোনও খামতি রাখেননি তিনি। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান অর্জুন দে। এরপরেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে অস্মিতার পরিবারে। কমনওয়েলথ গেমসে যোগ্যতা অর্জনের দিন কয়েক আগেই এই ঘটনা ঘটায় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অস্মিতা। সেই সময় তাঁর মায়ের ভূমিকা ছিল বলার মতো। মায়ের অনুপ্রেরণাতেই সাইয়ের ভোপাল কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন অস্মিতা। পরে খেলোয়াড় কোটায় পুরস্কার পান উত্তরপ্রদেশ পুলিশেও।

শেষ পর্যন্ত দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন এই ভারতীয় জুডোকা। স্কটল্যান্ডের এভা ইয়ং ও সারা অ্যাডলিংটনকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন তিনি। ফাইনালে কানাডার হেইডি সোয়াচকে ২-১ পয়েন্টে হারিয়ে ফাইনালে ইতিহাস গড়েন তিনি। তারপরেই রোনাল্ডোকে নিজের অনুপ্রেরণা হওয়ার কথা বলেন অস্মিতা। কিন্তু যেভাবে রোনাল্ডো বিশ্বের বহু মানুষকে নিজের প্রতিভার আলোতে আলোকিত করেছেন, সেভাবেই তাঁর ফ্যানগার্ল অস্মিতাও দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য পর্যায়ে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us