
মোহনবাগান – ১ (৯) : জামশেদপুর এফসি – ১ (৮)
কলকাতা : গতকালই ডুরান্ড কাপের শেষ চারে উঠে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আজ একই পথ অবলম্বন করে সেমিফাইনালে মোহনবাগানও। টাইব্রেকারে জামশেদপুরকে তারা হারাল ৯-৮ ব্যবধানে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ১-১ থাকলেও টাইব্রেকারে দুই দলই প্রথম থেকে গোল করতে থাকে। শেষে জামশেদপুরের নবম শট মারতে আসেন মামা। তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। পরের শটে গোল করে দলকে জিতিয়ে দেন অভিমিতেই।
তবে একটা কথা আজ বলা দরকার। ‘খারাপ খেলা’ যদি আর্ট হয়, মোহনবাগানের আজকের খেলা তাহলে ‘আর্টিস্ট’। জঘন্য গেমপ্লে, পরিকল্পনাহীন ফুটবল খেলেও সেমিফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান। আজ, সোমবার মাত্র দুই বিদেশী আলবার্তো ও দেজান ড্রাজিচকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন বাগান কোচ প্যানোস। দলে ছিলেন না ম্যাকলারেন, মিগুয়েলরা। ম্যাচ শুরুর প্রথম ২ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন। প্রণয় হালদারের মিসপাস পেয়ে যান ড্রাজিচ। তাঁর পাস থেকে জালে বল জড়িয়ে দেন সাহাল। একই সঙ্গে এই ডুরান্ড কাপে ৫ নং গোল করে ফেললেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় বিরক্তিকর ফুটবল। একগাদা সহজ সুযোগ নষ্ট করতে থাকে দুই দল। ২৫ মিনিটের মাথায় লিস্টন কোলাসোর ফাউলের ফলে ফ্রিকিক পায় জামশেদপুর। এছাড়া আমন একটি সহজ গোলের সুযোগও মিস করেন। প্রথমার্ধের কিছুক্ষন আগে ১-১ করে জামশেদপুর। রাশিথোই-য়ের দূরপাল্লার শট থেকে ফিরতি বলে গোল করেন দেবেন্দ্র মুরগাওঁকর।
দ্বিতীয় হাফেও একই বিরক্তিকর ফুটবল উপহার দেয় দুই দলই। তবে ৬৫ মিনিটের মাথায় সহজ সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। সাহালের দেওয়া ফাঁকা জায়গায় পাস থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন বাগান স্ট্রাইকাররা। দুই দলই নিজেদের পূর্ণশক্তি দিয়ে আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউই। ৯০ মিনিটের পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। ১০টা কর্নার ও ২৪টা শট থেকেও গোলসংখ্যা বাড়েনি বাগানের। বাগান কিপার বিশাল কাইথের বিশ্বস্ত হাত আজ টাইব্রেকারে আবার বাঁচাল মোহনবাগানকে। তবে প্রশংসা করতে হয় প্রণয় হালদার, প্রভাত লাকরাদের। যেভাবে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন এঁরা, তাতে প্রশংসা প্রাপ্য প্রণয়দের। মোহনবাগানের বিরুদ্ধেই শেষ ম্যাচ খেলল জামশেদপুর। আর কোনও দিন কোনও ম্যাচে দেখা যাবে না এই নীল-সাদা জার্সিকে। বাগানের বিরুদ্ধে খেলার পরেই একদিক থেকে নিজেদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ফেলল জামশেদপুর।
ডুরান্ড কাপের নিয়ম অনুযায়ী, ৯০ মিনিট হলেই টাইব্রেকার হবে। কিন্তু দুই দলের সকলেই গোল করছিলেন ক্রমাগত। মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন রাহুল ভেকে, জেলকোভিচ, শুভাশিস বোস, ম্যাকলারেন, কিয়ান নাসিরি, অনিরুদ্ধ থাপা, আলবার্তো রদ্রিগেজ, সুহেল ভাট, টেকচাম সিং গোল করেন। এমন কি ৮ গোল করেন জামশেদপুরের ফুটবলাররাও। নবম শটে গোল মিস করেন মামা। এর পরেই অভিমিতেই গোল করে দলকে জিতিয়ে দেন। যে ম্যাচ ১-১ ড্র হল, সেই ম্যাচই পেনাল্টিতে শেষ হল ৯-৮ ব্যবধানে। সেমিফাইনালে শিলংয়ে নর্থইস্ট ইউনাইটেড ও শিলং লাজংয়ের মধ্যে বিজয়ী দলের সঙ্গে খেলবে মোহনবাগান। কিন্তু এই হতশ্রী খেলায় উন্নতি না করলে বাগানের কপালে বিপত্তি আছে।