
কলকাতা : আগেই শোনা গিয়েছিল সম্ভাব্য খবর। এবার সেই জল্পনাতেই মান্যতা দিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মুখ্য ইনভেস্টর ইমামি। আজ একটি নোটিশে তারা জানাল, ইনভেস্টর রূপে তাদের কাজ শেষ। অর্থাৎ, আগামী মরশুম থেকে আর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মূখ্য ইনভেস্টর থাকবে না ইমামি। তবে, একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, অন্য ভূমিকায় ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ইমামি। আগেই TV9 বাংলা জানিয়েছিল, স্পনসর হিসেবে লাল-হলুদে থাকবে ইমামি। এবার সেই খবরেই শিলমোহর পড়ল।
আজ নোটিশে ইমামি জানিয়েছে, তারা আর ক্লাবের ইনভেস্টর রূপে থাকছে না। এমনকি এরপরেই নিজেদের কাছে থাকা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শেয়ার ও ভোটিং স্বত্বও ক্লাবকে ফিরিয়ে দিয়েছে ইমামি। তবে ইমামি জানিয়েছে, তারা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবে কিন্তু স্পনসর হিসেবে। অর্থাৎ, খেলোয়াড়দের জার্সি, কিট ইত্যাদির দায়িত্ব নিয়েছে তারা। এমনকি ক্লাবের জার্সিতে থাকবে ইমামির লোগোও।
ইমামি এও জানিয়েছে, তাদের মুখ্য ইনভেস্টর থাকাকালীন দল অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। ২০২৪ সালে কলিঙ্গ সুপার কাপ, ২০২৪-২৫ এ কলকাতা লিগ ও ২০২৬-এ আইএসএল ও ডুরান্ড কাপ জিতে অভাবনীয় ইতিহাস গড়েছে লাল-হলুদ। এর পাশাপাশি ২০২৩ সালে মহিলা ক্লাবের কন্যাশ্রী কাপ জয় ও ২০২৫ সালে মহিলা দলের প্রথমবার আয়োজিত সাফ উওমেন্স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপও চ্যাম্পিয়ন হওয়াও ঐতিহাসিক। এমনকি ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ এ পরপর দুই বার ইন্ডিয়ান উওমেন্স লিগও চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-হলুদের প্রমীলা বাহিনী। সব সাফল্যই এসেছে ইমামি ইনভেস্টর থাকাকালীন।
এ বছর আইএসএল শেষ হওয়ার পরই ফুটবলে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক ছিল না ইমামি। এর প্রধান কারণ ছিল, ভারতীয় ফুটবলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ইস্টবেঙ্গলকে সে কথা তারা জানায়ও। নিজেদের মতো করেই এগোচ্ছিলেন ক্লাব কর্তারা। তবে ইনভেস্টর সমস্যা মেটেনি। মাঝে শোনা গিয়েছিল, ক্লাবের নয়া ইনভেস্টর হবে আমূল, কিন্তু তা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ইমামি কর্তাদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বরফ গলে। তাই ইনভেস্টর হিসেবে না হলেও, স্পনসর হিসেবে ইমামি থাকায় ইস্টবেঙ্গলের আর্থিক সঙ্কট কিছুটা হলেও মিটবে তা আশা করাই যায়। এবার ২৩ বছরের খরা কাটিয়ে কোনও জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসে লাল-হলুদের। তবে ইমামির সরে যাওয়া একপ্রকার চমকপ্রদ কারণ সম্ভবত এই প্রথম সাফল্য আসার পরেও কোন কোম্পানি ইনভেস্টর পদ থেকে সরে গেল। যদিও, তাদের স্পনসর হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করার ফলে আবার ইনভেস্টর সমস্যা প্রকট হল লাল-হলুদে।