
কলকাতা : ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবথেকে সফলতম দল হল ব্রাজিল (Brazil Foor। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তারা ষষ্ঠবার ট্রফির অন্বেষণে নামতে চলেছে। নতুন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির অধীনে সেলেকাওরা ট্রফি খরা কাটাতে মরিয়া। তবে দলের ভিতরের সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এবারের ব্রাজিল দলে যেমন বেশ কিছু বড় শক্তি আছে, তেমনই বেশ কিছু জায়গায় বেশ দুর্বল ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
শক্তি –
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মূল শক্তি হল তাদের তরুণ ও দুরন্ত ফরোয়ার্ড লাইন। একদিকে যেমন দলে রয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মতো তারকারা, তেমনই রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, রাফিনহার মতো তরুণ তুর্কিরা। ভিনি জুনিয়র যেদিন যেকোনও ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। এছাড়াও রয়েছেন তরুণ এন্ড্রিক, যিনি একসময় ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। এঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। নেইমারের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই তিনি চাইবেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ জিতে সেই বিশ্বকাপ যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে। এছাড়া ব্রেন্টফোর্ডের তারকা ইগোর থিয়াগোর মতো ইনফর্ম স্ট্রাইকার দলে আসায় ফরোয়ার্ড লাইনের ধার আরও বেড়েছে। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরোর অভিজ্ঞতা এবং লুকাস পাকুয়েতা ও ব্রুনো গুইমারেসের সৃজনশীলতা দলকে মাঝমাঠে ভারসাম্য এনে দিয়েছে। ডিফেন্স গ্যাব্রিয়েল মাগলেস ও মার্কুইনহোসের মতো নির্ভরযোগ্য সেন্টার ব্যাক ও গোলপোস্টের নিচে অ্যালিসন ও এডারসনের মত বিশ্বসেরা গোলরক্ষক থাকা ব্রাজিলের জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট।
দুর্বলতা –
শক্তির পাশাপাশি কিছু দুর্বলতাও ব্রাজিলকে চিন্তায় রাখবে। প্রথমত, দলের সবথেকে বড় নেইমারের ফিটনেস। সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পেয়েছিলেন নেইমার। তাঁকে মূল দলে নেওয়া হলেও বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের চরম ধকল ও চাপ তিনি কতটা নিতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। দ্বিতীয়ত, ফুল ব্যাক পজিশনে কাফু বা ড্যানি আলভেজের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারের অভাব এখনও স্পষ্ট। ড্যানিলো বা অ্যালেক্স স্যান্ড্রোর মতো খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞ হলেও গতিময় প্রতিপক্ষের উইঙ্গারদের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের সাইডব্যাক প্রায়ই খেই হারিয়ে ফেলে। এছাড়া দলের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। বাছাইপর্বে ছোট দলগুলির বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানোর একই রোগ নক আউট পড়বে বিপদে ফেলতে পারে ব্রাজিলকে।
কাগজে কলমে ব্রাজিল ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দলগুলির একটি। এই বিশ্বকাপে গ্ৰুপ সি-তে রয়েছেন নেইমাররা। তাঁদের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন মরোক্কোর বিরুদ্ধে। এরপর ২০ জুন হাইতি ও ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। কোচ আন্সেলোত্তি যদি নেইমার ও ভিনিসিয়াসের রসায়নকে কাজে লাগিয়ে ডিফেন্সের দুর্বলতাগুলোকে দ্রুত মেরামত করতে পারেন, তবে ল্যাটিন আমেরিকার এই শক্তিশালী দলটির কাছে হেক্সা বা ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জয় অসম্ভব নয়।