
দোহা : এখন আর যাই হোক, গর্ব নিয়েই দেশে ফিরতে পারে মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে সপ্তম ম্যাচ খেলতে চলেছে তারা। যদিও সেটা ফাইনাল নয়। তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নামছে মরক্কো। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে যোগ্যতা অর্জন করেছিল মরক্কো। তাদের স্বপ্নের দৌড় থামে গত বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে। তাতে অবশ্য মরক্কোর কৃতিত্ব কমে যায় না। তারা এ বারের বিশ্বকাপে চমক, রূপকথার গল্প, ইতিহাস। সব তাদের নামে। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচেও মর্যাদার লড়াইয়েই নামবে। বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানও মরক্কোর কাছে বিশাল প্রাপ্তি হবে। গত বারের রানার্স ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইটা যদিও সহজ হবে না। ক্রোয়েশিয়া বনাম মরক্কো তৃতীয় স্থানের ম্যাচ প্রিভিউ TV9Bangla-য়।
তৃতীয় স্থানের ম্যাচের আগে মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আরও একটু অন্যরকম। সব ঠিক থাকলে আমরা ফাইনাল খেলতাম। আরও একটা ম্যাচে নামছি। জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাই। এটা ঠিক, চার নম্বরে শেষ করার চেয়ে তৃতীয় হওয়া ভালো। তবে আমার কাছে বিষয়টা হল, আমরা ফাইনালে উঠতে পারিনি। আমরা সেই ম্যাচটাই খেলতে চেয়েছিলাম। ফুটবলারদের বলেছি, এটা এ বারের বিশ্বকাপে আমাদের সপ্তম ম্যাচ। মরক্কোর যে কাউকে এটা বললে গর্বিত হবে। গত প্রায় ২০ বছরে বিশ্বকাপে মরক্কো হয়তো আধডজন ম্যাচ খেলেছে। এ বারের বিশ্বকাপে আমরা এক সংস্করণেই সাতটি ম্যাচ খেলছি। এটা মহামূল্যবাণ। যেন, আমরা দুটো বিশ্বকাপে খেললাম। অনুভূতিটা খুব খারাপ নয়।’
ওয়ালিদের কথায় এটুকু অন্তত পরিষ্কার, একদিকে যেমন গর্ব, তেমনই ফাইনালে উঠতে না পারার আপশোসই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল পরস্পরের বিরুদ্ধেই। শেষটাও নিজেদের বিরুদ্ধেই খেলছে ক্রোয়েশিয়া-মরক্কো। সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। পুনরায় সাক্ষাতে ভালো ফলের প্রত্যাশায় মরক্কো কোচ। এই ম্যাচটা ক্রোয়েশিয়ার জন্য সবদিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরই শুধু নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপে এটিই শেষ ম্যাচ। ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ অবশ্য মনে করছেন, ২০২৪-এর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবেন মদ্রিচ। বলছেন, ‘আমি আশাবাদী ওকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পাব।’ মরক্কোর বিরুদ্ধে এই ম্য়াচ জিতে মাথা উঁচু করে টুর্নামেন্ট শেষ করাই লক্ষ্য ক্রোয়েশিয়া শিবিরের।