UEFA Champions League: ভলিতে চোখ ধাঁধানো গোল, ম্যান সিটিকে জেতালেন ‘ডার্লিং’ হালান্ড

Erling Haaland: ম্যাচ শেষে গর্বিত ম্যান সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা বলেন, 'যাঁরা আমাকে কিছুটা চেনে, তাঁরা জানে, আমার মধ্যে যোহান ক্রুয়েফের প্রভাব কতটা। ন্যু ক্যাম্পে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে তাঁর গোল এখনও চোখের সামনে ভাসে। হালান্ডের গোল অনেকটা তেমনই। হালান্ডের গোলের সময় আমার ক্রুয়েফের কথাই মনে পড়েছে।'

UEFA Champions League: ভলিতে চোখ ধাঁধানো গোল, ম্যান সিটিকে জেতালেন ডার্লিং হালান্ড
Image Credit source: TWITTER

| Edited By: সঙ্ঘমিত্রা চক্রবর্ত্তী

Sep 15, 2022 | 5:06 PM

ম্যাঞ্চেস্টার : এমন গোল কালে ভদ্রে দেখা যায়। রাত জেগে যারা ফুটবল দেখেন, যে দলেরই সমর্থন হোন, এমন গোলে প্রশংসা না করে থাকতে পারবেন না। দল যেখানে খাদের কিনারে, এমন মুহূর্তে মাথা ঠাণ্ডা রেখে চোখ ধাঁধানো গোল। আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland) এখন ম্যান সিটি সমর্থকদের কাছে ‘ডার্লিং হালান্ড’। প্রাক্তন ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে বর্তমান দলের হয়ে এমন গোলেই জেতালেন আর্লিং হালান্ড। অথচ একটা সময় অবধি মনে হয়েছিল ঘরের মাঠে খালি হাতেই ফিরতে হবে। একটা গোল ম্যাচের রঙ বদলে দিল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (UEFA Champions League) গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। এতিহাদ স্টেডিয়ামে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও ২-১ এ জিতল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি (Manchester City)

ঘরের মাঠে প্রথমার্ধ হতাশার কাটে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির। হতাশা দ্বিগুন হয় দ্বিতীয়ার্ধের কিছুক্ষণের মধ্যেই। ম্যাচের বয়স তখন ৫৬ মিনিট। মার্কো রিউসের ক্রস, হেডে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যান সিটি গোলরক্ষক এডারসন দর্শকের ভূমিকায়। এতটাই নিখুঁত হেডার, তাঁর পক্ষেও কিছু করার ছিল না। হতাশা বাড়ে ম্যান সিটির। অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকেন কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। কিছুতেই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে, হতাশা বাড়ছে নীল ম্যাঞ্চেস্টারে। নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে ঘটল অভাবনীয় কাণ্ড। এই ম্যাচে রাইট ব্যাকে খেলা জন স্টোনস উঠে এসেছিলেন অনেকটাই। অলআউট আক্রমণে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ছিল ম্যান সিটি। ম্যাচের ৮০ মিনিট। কেভিন ডি ব্রুইনের পাস। প্রতিপক্ষ বক্সের বাইরে থেকে হঠাৎই গোলে জোরালো শট নেন স্টোনস। ঠিক যেন ‘ট্রেসার বুলেট’ শট। বরুসিয়া গোলরক্ষক তা বাঁচানোর চেষ্টা করারই সুযোগ পাননি। সমতা ফেরানোর পর কিছুটা স্বস্তি আসে ম্যান সিটি শিবিরে। আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। ৪ মিনিটের মধ্যে সেই ঘটনা। জোয়াও ক্যানসেলোর ক্রস পড়তে দেননি। অ্যাক্রোব্যাটিক হালান্ড ভলিতে অনবদ্য গোল করেন। যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ম্যাচের জয়সূচক গোল এল হালান্ডের থেকেই। গোল করার পর অবশ্য উচ্ছ্বাসে মাতেননি হালান্ড। প্রাক্তন ক্লাবকে সম্মান জানাতেই এমন সিদ্ধান্ত।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে ২১ ম্যাচে অপরাজিত ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। এর মধ্যে জয় ১৯ ম্যাচে। মাত্র ২টি ড্র। ম্যাচ শেষে গর্বিত ম্যান সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা বলেন, ‘যাঁরা আমাকে কিছুটা চেনে, তাঁরা জানে, আমার মধ্যে যোহান ক্রুয়েফের প্রভাব কতটা। ন্যু ক্যাম্পে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে তাঁর গোল এখনও চোখের সামনে ভাসে। হালান্ডের গোল অনেকটা তেমনই। হালান্ডের গোলের সময় আমার ক্রুয়েফের কথাই মনে পড়েছে।’ ম্যাচে দুটি বিশ্বমানের গোল ছাড়া ম্যান সিটির সার্বিক পারফরম্যান্স খুব ভালো হয়নি, স্বীকার করে নিলেন কোচও। পেপ বলেন, ‘শুরুতে আমরা খুবই খারাপ খেলেছি। তবে শেষ ৩৫ মিনিটে নিজেদের বুঝিয়েছি, আমরা এক গোলে পিছিয়ে, তবু জিততে পারি। কিছু প্লেয়ার বদল হয়, খেলার ছন্দ বদলায়।’

Follow Us