
গত মরসুম অবধি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের অন্যতম প্রিয় ছিলেন বোরহা। এখনও রয়ে গিয়েছেন। তার প্রমাণ শুক্রবারের যুবভারতী। গত মরসুমে কলিঙ্গ সুপার কাপ জয়ের পর বোরহাকে ছেড়ে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কার্লেস কুয়াদ্রাতের সেরা টিম তৈরির পরিকল্পনায় ছিলেন না বোরহা। যদিও কার্লেস জানিয়েছেন, বোরহা নিজেই ছেড়েছিল, তাঁকে ছাড়া হয়নি। পরিস্থিতিটা যাই হোক, বোরহা হেরেরা এখন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন। আর তাঁর কাছেই ঘরের মাঠেও হারতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে এ বারের মরসুমে হারের হ্যাটট্রিক ইস্টবেঙ্গলের।
প্রথম দুটি ম্যাচ ছিল অ্যাওয়ে। ঘরে ফিরে স্বস্তিতে ছিলেন কার্লেস। কিন্তু তাঁর প্রাক্তন ছাত্রই হ্যাটট্রিক করে গোয়াকে জেতান। পারস্পরিক শ্রদ্ধাও দেখা গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোলের সেলিব্রেশন করেননি বোরহা। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের থেকে গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গল কোচকে। অথচ এই গ্যালারিই জয়ধ্বনি দিয়েছে বোরহার জন্য। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে এক সাক্ষাৎকারে বোরহা জানিয়েছেন, কেন তিনি গোলের সেলিব্রেশন করেননি। এমনকি হ্যাটট্রিকের পরও না!
আইএসএল মরসুমের প্রথম ম্যাচ জয়ে এফসি গোয়ার নায়ক বোরহা বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলাটা আমার কাছে স্মরণীয় মুহূর্ত। আমি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের খুব ভালো বাসি। ওরা আমাকে প্রচুর সমর্থন করেছে, পাশে থেকেছে। এই মাঠে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছি, এ বার এফসি গোয়ার হয়ে খেললাম।’ ম্যাচের মাঝেও গ্যালারি থেকে বেশ কয়েক বার বোরহা…বোরহা… ধ্বনি এসেছে। যা ভেবে আবেগে ভাসছেন বোরহা।
নিজেদের অনুভূতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘সকলে আমার নাম ধরে ডাকছে, এটা নস্ট্যালজিয়া। আগেও বলেছি, আমি এই ক্লাব এবং সমর্থকদের সম্মান করি। ওরা আমাকে প্রচুর ভালোবাসা দিয়েছে। এই ম্যাচেও এত সুন্দর মুহূর্ত উপহার হিসেবে ধন্যবাদ জানানো টাও কম।’ সেলিব্রেশন প্রসঙ্গে যোগ করলেন, ‘পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবারও দেখা হল। খুব ভালো লেগেছে। আর আমি সেলিব্রেট করিনি কারণ, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আমি সম্মান করি। ওরা আমাকে এখনও মেসেজ করে। সত্যিই এখানে আবারও খেলতে পেরে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে।’