
দোহা : কোয়ার্টার ফাইনালে আজ নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নামছে আর্জেন্টিনা। আরও পরিষ্কার করে বললে লিও মেসির আর্জেন্টিনা। তবে এই আর্জেন্টিনা শুধু মেসির নয়। আরও অনেকে উঠে এসেছেন, যাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে জানেন। সেটা না পারলে গ্রুপ পর্বেও ছিটকে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হার। সে সময় দুটো জিনিস হতে পারতো। এক, দলের অন্দরে একে অপরকে দোষারোপ করা! দুই হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো। প্রথমটা হয়েছিল কীনা জানা নেই। দ্বিতীয়টা হয়েছিল। গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ জিততেই হত। দুই ম্যাচেই দাপুটে জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে। এ বার লড়াই সেমিফাইনালের। সামনে কমলাব্রিগেড। নেদারল্যান্ডস বনাম আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ প্রিভিউ TV9Bangla-য়।
বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচের মতো আগেও বড় ধাক্কা খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। চোটের জন্য টুর্নামেন্ট থেকে ছিঁটকে গিয়েছিলেন জিওভানি লো সেলসো। তাঁর না থাকাটা নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। কাতারে পৌঁছেও চোট সমস্যা মেটেনি। প্রথম ম্যাচে নামার আগেই আরও দুই ফুটবলার চোটের জন্য বাইরে। এখন যেমন আশঙ্কা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং রড্রিগো ডি পলকে নিয়ে। যদিও তাঁদের অনুশীলনে দেখা গেল। ক্ষীণ হলেও এই ম্যাচে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তত আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির চিত্র তাই বলছে। এ দিন দুটি একাদশ পরীক্ষা করেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
প্রথম যে ফর্মেশন প্র্যাক্টিস করেন তা হল ৪-৩-৩। এরপর ৫-৩-২। প্রথম একাদশ নিয়ে অনুশীলন করে, সেটায় মূলত শেষ ষোলোর দলটাই ধরে রাখা হয়েছিল। মার্কোস আকুনার জায়গা নিকোলাস তাগলিয়াফিকো এবং আলেজান্দ্রো গোমেজের জায়গায় ফিদেও। পরে যে একাদশ পরীক্ষা করেন, সেখানে হুয়েভো এবং লিজান্দ্রো মার্টিনেজকে রাখেন। ডি পলের জায়গায় দেখা হয় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। ডি মারিয়া এবং ডি পল, এই দুই ‘ডি’ ছাড়া আর কাউকে নিয়ে অস্বস্তি নেই আর্জেন্টিনা শিবিরে। যে দুটি একাদশ পরীক্ষা করেন আর্জেন্টিনা কোচ, তার প্রথমটি হল- এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নহেল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, তাগলিয়াফিকো, ডি পল, এনজো ফার্নান্ডেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ, ডি মারিয়া। দ্বিতীয় যে একাদশ পরীক্ষা করেন সেটি হল-মার্টিনেজ, মোলিনা, রোমেরো, ওটামেন্ডি, লিজান্দ্রো মার্টিনেজ, আকুনা, এনজো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ম্যাক অ্য়ালিস্টার, মেসি এবং জুলিয়ান আলভারেজ।
চূড়ান্ত প্রথম একাদশ আদৌ বেছে নিতে পেরেছেন কীনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে যাই হোক, বিকল্প, ম্যাচ টাইব্রেকারে গেলে কী করবেন, সব পরিকল্পনাই সাজিয়ে রেখেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। হোমওয়ার্ক কমপ্লিট। এ বার মাঠে নেমে পারফর্ম করার পালা। লিওনেল মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। কোনটা শেষ ম্যাচ হবে, তার ভরসা নেই। নকআউটে যে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।