
কলকাতা : মেট্রোতে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নতুন নয়। প্রতিনিয়তই শোনা যায় এমন ঘটনা। তবে আবার এই ঘটনায় শিরোনামে এল কলকাতা মেট্রো। চলন্ত মেট্রোয় এক মহিলাকে শারীরিক হেনস্তা ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয়, তিনি বাংলা মহিলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন কোচ। ইতিমধ্যেই তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার ভিড়ে ঠাসা দমদম-টালিগঞ্জগামী মেট্রোতে অভিযুক্ত কোচ প্রথমে এক মহিলার দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। মহিলার প্রতিবাদের পর সরব হন বাকি যাত্রীরাও। এরপর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করা হয়। এরপরেই তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয় বৌবাজার থানার তরফে। আপাতত জেলেই ঠাঁই হয়েছে তাঁর। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁকে কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এরপরেই আগামী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।
অতীতেও এই কোচের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। বাংলার অনুর্ধ্ব ১৫ মহিলা দলের ফিজিও একবার অভিযোগ করেন তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময় কোনও পুলিশি অভিযোগ না হলেও এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বাংলার ক্রিকেট মহল। আসরে নেমে তদন্ত কমিটি গঠন করে তাঁকে কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয় সিএবি। এরপরেই আবার একই ঘটনা ঘটল। কিন্তু এবার চলন্ত মেট্রোতে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিজের কেরিয়ার খুব একটা বর্ণময় নয় তাঁর। একসময় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ এসেছিল। অনুর্ধ্ব ১৯ সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। অভিযুক্ত বাংলার হয়ে রঞ্জি দলে খেলেছেন ও ৩ বার রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি ছিলেন একজন পেসার। তবে এই ঘটনা ফের জনসমক্ষে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। অতীতে তিনি ঝুলন গোস্বামী ও রিচা ঘোষকে প্রশিক্ষণ দিলেও তাঁর এই ব্যবহারে আবার একবার কালিমালিপ্ত হল বঙ্গ ক্রীড়ামহল।