
নয়াদিল্লি : হকি বিশ্বকাপের ঠিক আগেই বিতর্ক চরমে উঠেছিল। কেন ভারতের জার্সির রং গেরুয়া করা হয়েছিল, এই নিয়ে শুরু হয় খুব বিতর্ক। হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি দিলীপ তীরকে জানিয়েছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই এই জার্সি বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর একে অন্যকে দোষারোপ করতে থাকে। বলা হয়েছিল, নীল টার্ফে যাতে নীল রং গুলিয়ে না যায়, তাই জার্সির রং বদলানো হয়েছে। যদিও এরপরেও বিশেষ লাভের লাভ কিছু হয়নি। ভারতের ফল হয় খুব শোচনীয়। কিন্তু এর মধ্যেই একটি বড় ঘোষণা করেছেন সভাপতি। সংস্থা জেনারেল ডিরেক্টর আরকে শ্রীবাস্তবকে অপসারণ করা হয়েছে। তাঁকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিসে জানানো হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া অবধি হকি ইন্ডিয়ার ডিজি হিসেবে শ্রীবাস্তব কোনও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। তাকে অপারেশনাল চার্জ, সরকারি নথি, ফাইল, ডকুমেন্ট, অ্যাক্সেস ক্রেডেনশিয়াল, সম্পত্তি ও নানা নথি প্রেসিডেন্টের দফতর মনোনীত কোনও আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁকে অপারেশনাল, প্রশাসনিক, আর্থিক, চুক্তিভিত্তিক, তদারকি, স্বাক্ষর, মিডিয়া, যোগাযোগ বা হকি ইন্ডিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার কোনও রকম নিয়ম নেই। তবে এটিও জানানো হয়েছে, এটি কোনও চূড়ান্ত শাস্তি বা অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। তাঁর চুক্তিভিত্তিক মাহিনা বা সাধারণ পরিষেবাগত সুবিধার উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না।
তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, জার্সির রং বদলের সিদ্ধান্ত। হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি বা কার্যনির্বাহী কমিটির কারও সঙ্গে পরামর্শ না করেই তিনি এই কাজ কেন করেছিলেন, তার জবাব চাওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল বিশ্বকাপের সময়। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, “কমান্ডার আর কে শ্রীবাস্তবকে বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যেতে বারণ করা হয়েছিল। কারণ হকি ইন্ডিয়া লীগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে দরকার ছিল।” কিন্তু অভিযোগ, শ্রীবাস্তব সেই নির্দেশ অমান্য করে বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যান ও সেখানে থাকেন। অথচ নির্বাচক কমিটির সদস্য সুভদ্রা প্রধান ও বয়সভিত্তিক দলের কোচ রানি ও সর্দার সিংকে পাঠানোর কথা থাকলেও পাঠানো হয়নি। এর ফলে হকি ইন্ডিয়ার সভাপতির পদকে সরাসরি অপমান ও তাঁর নির্দেশ অমান্য করার শামিল।
এমনকি নোটিসে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগ সংক্রান্ত কোনও নথিতে হাত দিতে পারবেন না শ্রীবাস্তব। তবে যদি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণহীন হয়ে যায়, তাহলে তাঁকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির কথা ভাবতে পারে হকি ইন্ডিয়া।