Fifa World Cup 2026: বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ইতিহাস কুরাসাওয়ের! ১.৪ বিলিয়নের ভারত কেন এখনও দর্শক?

Curacao National Team: কনকাকাফ জোনের তিন বড় দেশ - আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকো এবার বিশ্বকাপের আয়োজক। ফলে, তাদের এবার কোয়ালিফায়ারে খেলতে হয়নি। এই তিনটে দেশ আয়োজক হিসাবে সরাসরি মূলপর্বে চলে যায়। আয়তন আর জনসংখ্যা, দু-দিক থেকেই বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে এবার বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে কুরাসাও।

Fifa World Cup 2026: বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ইতিহাস কুরাসাওয়ের! ১.৪ বিলিয়নের ভারত কেন এখনও দর্শক?
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে এবার বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে কুরাসাও।Image Credit source: Getty Images

| Edited By: Moumita Das

Jun 06, 2026 | 4:42 PM

–  সোমনাথ দাস 

কলকাতা : বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৫ দিন। প্রতি চার বছর অন্তর এই ফুটবলের মহাযজ্ঞের আসর বসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। অংশ নেয় বড় থেকে ছোট – সব ধরণের দেশ। কিন্তু ভারত? বিশ্বের এই গর্বিত মঞ্চে ভারত যেন এক কুলীন দেশ। ভারতীয় সমর্থকেরা রাত জেগে খেলা দেখেন আর ভাবেন, “ওরা পারে, আমরা পারি না কেন। ছোট ছোট সব গরিব দেশ। ওরা ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে। আর এতকিছু থাকা সত্ত্বেও আমরা, ভারত পারি না।” কিন্তু এই বার এই না পারার গ্লানি যেন আরও বেশি করে গায় লাগছে। কারণ কী জানেন? এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে কুরাসাও নামে একটা দেশ। ঠিক শুনেছি তো? দেশটার নামটাই কখনও শুনেছি বলে মনে পড়ছে না। তাই তো! ওরা রেকর্ড করে ফেলেছে। আয়তন আর জনসংখ্যা, দু-দিক থেকেই বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে এবার বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে কুরাসাও। ক্যারিবিয়ান সাগরের একটা দ্বীপ। আয়তন? মাত্র সাড়ে চারশো বর্গ কিলোমিটার।

দেশটার লোকসংখ্যা শুনলেও অবাক হতে হয়। মাত্র দেড় লক্ষ। আমাদের কলকাতা কর্পোরেশনের একটা বরো-তেই গড়ে ৩ লাখ মানুষ থাকেন। কুরাসাও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮২. আমরা ১৩৬। ঠিকই আছে। ওরা খেলবে। আমরা খেলা দেখব। ভুল কিছু নেই।

কনকাকাফ জোনের তিন বড় দেশ – আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকো এবার বিশ্বকাপের আয়োজক। ফলে, তাদের এবার কোয়ালিফায়ারে খেলতে হয়নি। এই তিনটে দেশ আয়োজক হিসাবে সরাসরি মূলপর্বে চলে যায়। আর জোনের ছোট দেশগুলোর সামনে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখার রাস্তাটা খুলে যায়। সেই স্বপ্নটাকেই বাস্তব করে তুলেছে কুরাসাও। মূলপর্বে ওঠার লড়াইয়ে তারা জামাইকা, হাইতি, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ও বারমুডাকে হারিয়েছে। বিশ্বকাপের মূলপর্বে তাদের গ্রুপে রয়েছে জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট।এই বার দেশটা সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক।

ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবিয়ান সাগরে অতি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। দেশটা ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের হাত থেকে স্বায়ত্তশাসন পায়। অর্থনীতি বলতে মূলত পর্যটন। আর গভীর সমুদ্র বন্দর থাকায় সেখান থেকেও কিছুটা আয় হয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও অঞ্চল সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র না হলেও, যদি তাদের একটা স্বায়ত্তশাসিত সরকার ও নিজস্ব ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থাকে, তবেই তারা আলাদা দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। এই নিয়মের কারণেই কুরাসাও ফিফার পূর্ণ সদস্য এবং নেদারল্যান্ডসের থেকে আলাদা দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলছে। ২০১০ সালেই তারা ফিফার সদস্যপদ পেয়েছিল। টিমের অনেকেই ডাচ লিগে খেলায় বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠতে কুরাসাও আংশিক সুবিধা পেয়েছে। আবার এটাও ঠিক যে ফিফার নিয়মে গেরোতেই আটকে নেদারল্যান্ডসের জাতীয় দল থেকে আসা কোনও ফুটবলার কুরাসাওয়ের হয়ে মাঠে নামতে পারেন না। ফলে, এই দ্বীপের ফুটবলারদের কৃতিত্বকে খাটো করে দেখার কোনও জায়গা নেই।

অনেকেই বলছেন কুরাসাওকে এবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে নিয়ে যাওয়ার পিছনে দলের কোচ ডিক অ্যাডভোকেটের বড় ভূমিকা রয়েছে। ডিক অতীতে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়ার মতো বিভিন্ন বড় ফুটবল খেলিয়ে দেশের জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছেন। এবার ৭৮ বছর বয়সে ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রবীণতম কোচের মর্যাদা পেতে চলেছেন। কিন্তু শেষে প্রশ্ন তো রয়েই গেল। কুরাসাও-ও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে গেল। কিন্তু ভারত….আর কবে?

Follow Us