
কলকাতা: দু’মাস আগেও মনে হচ্ছিল, এই মরসুমটা তাঁর একেবারেই ভালো যাবে না। টানা সাতটা টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। প্যারিস অলিম্পিকের স্বপ্নও ক্রমশ ফিকে আসছিল। সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন হল লক্ষ্য সেনের (Lakshya Sen)। ২২ বছরের তরুণ অল ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে পা রাখলেন মালয়েশিয়ার প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন লি জি জিয়াকে ২-১ গেমে হারিয়ে শেষ চারে উঠলেন। দু’বছর আগে এই টুর্নামেন্টেই রানার-আপ হয়েছিলেন। এ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন লক্ষ্য।
লি-র বিরুদ্ধে প্রথম গেমটা ২০-২২ হেরে গিয়েছিলেন লক্ষ্য। কিন্তু সেখান থেকেও হাল ছাড়েননি। গত সপ্তাহে টানা তিনটে লম্বা ম্যাচ খেলেছেন। তবু কোর্টে ক্লান্ত দেখায়নি তাঁকে। ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন ভারতীয় তরুণ। এখন তারই সুফল পাচ্ছেন। পরের দুটো গেমে ২১-১৬, ২১-১৯ জেতেন। তৃতীয় গেমটা অবশ্য সহজ ছিল না। লক্ষ্যর পক্ষে ১১-৮ স্কোর ছিল একসময়। ভারতীয় শাটলার খুব ভালো করে জানতেন, একটা ভুল ম্যাচ হাতছাড়া করতে পারে তাঁর। তা হতেও দেননি। সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার জোনাটন ক্রিস্টির বিরুদ্ধে নামবেন লক্ষ্য।
বিশ্বের ১৮ নম্বর প্লেয়ার লক্ষ্য ম্যাচ জিতে বলে দিয়েছেন, ‘একটা দারুণ ম্যাচ খেলেছি। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে ভালো লাগছে। লি যে কোনও সময় ফিরে আসার চেষ্টা করবে, তা ভালো করেই জানতাম। নিজের নার্ভ ধরে রাখতে পেরেছিলাম। শেষ গেমে ১৮-১৪ এগিয়ে থাকার সময়ও চাপটা ছিল আমার উপর। কিন্তু ওকে আমি একটা সুযোগ দিইনি। গত সপ্তাহ থেকেই লম্বা ম্যাচ খেলছি। কত তাড়াতাড়ি রিকভার করতে পারি, তার উপর সব কিছু নির্ভর করছে।’