
কলকাতা: রবার্ট ব্রুসের কাহিনিটা মনে আছে? স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ইংল্যান্ডের কাছে টানা ৬ খানা যুদ্ধ হেরে একটি গুহার মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। গুহায় তিনি দেখতে পান, একটি মাকড়সা বারবার পিচ্ছিল পাথরের উপর উঠতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে পড়ে যাচ্ছে। অবশেষে ৬ বার ব্যর্থ হওয়ার পরে মাকড়সাটি গুহার পাথুরে দেওয়ালে ওঠে। সেই ঘটনা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে রবার্ট আরও একবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেন ও এইবার জয়লাভ করেন। ব্রাজিলের নেইমারের দ্য সিলভা স্যান্টোস জুনিয়রের কাহিনিটাও অনেকাংশে এক। ক্লাবের জার্সিতে সফল হলেও বিশ্বকাপে বরাবরই এক অনাহুত অতিথির মতো নেইমারের জীবনেও আবির্ভাব হয়েছে চোটের। যে চোট তাঁর থেকে কেড়ে নিয়েছে তিনটি বিশ্বকাপের স্বপ্ন, যে চোট ২০১৪ সালে তাঁর কোমর ভাঙার ঘটনা দিয়ে কাঁদিয়েছে গোটা ব্রাজিলকে, সেই নেইমার রবার্ট ব্রুস হতে গিয়েও হতে পারলেন না।
গতকালই তাঁর ক্লাব সান্তোস ৪-২ গোলে হারিয়েছে ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে। সেই ম্যাচের পরেই সংবাদমাধ্যমকে নেইমার জানিয়েছেন, তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে ইচ্ছুক নন। তাঁর কথায়,”আমার মনে হয়, আমার সময় শেষ। ২০৩০ বিশ্বকাপ অবধি আমি আর থাকছি না। আমি আমার দেশের হয়ে অনেক লড়েছি। অনেক ঘাম-রক্ত ত্যাগ করেছি। দেশের জার্সিতে অনেক ইতিহাস গড়েছি। আমি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ইচ্ছুক নই। এখন আমার সব ফোকাস একমাত্র স্যান্টোসকে নিয়েই।”
২০২৬ বিশ্বকাপেও চোট-আঘাতগ্রস্ত নেইমারকে দলে নিয়েছিলেন জাতীয় দলের কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি। বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচে নামেননি তিনি। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭৬ মিনিটে মাঠে নামেন তিনি। সেই ম্যাচ ব্রাজিল জেতে ৩-০। তবে এই বিশ্বকাপে একমাত্র গোল তিনি করেছেন নরওয়ের বিরুদ্ধে। রাউন্ড অফ ১৬র ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে সেলেকাওদের হয়ে একমাত্র গোল করেছেন নেইমার। দেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচ, করেছেন ৮০টি গোল। কিন্তু ২০১৪-২০২৬, মোট চারটি বিশ্বকাপ খেললেও একটিবারের জন্যও দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারলেন না এই মহাতারকা।
নিজের পায়ের জাদু দিয়ে বরাবর মুগ্ধ করেছেন নেইমার। তাঁর স্কিল, তাঁর ড্রিবলিং – সব যেন কোনও স্রোতস্বিনী নদীর মতো গতিশীল। যেন নেইমার মাঠে নামলে পুরো ব্রাজিল দলটাই স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটতে চাইত। রোনাল্ডিনহো গিয়েছেন, নেইমার এসেছেন। এসেছেন ভিনি, রদ্রিগো, লুকাস পাকুয়েতারাও। হয়ত ভবিষ্যতেও আসবেন অনেকে। কিন্তু নেইমারের মতো গতিশীল ব্রাজিলিয়ান ? সন্দেহ রয়েই গেল। নিন্দুকদের মতে, নিজের কেরিয়ারের সেরা সময় বার্সেলোনা ছেড়ে দেওয়া বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল নেইমারের। কিন্তু নেইমাররা তো বরাবর আলাদা। বরাবর স্রোতের বিপরীতে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন। রবার্ট ব্রুস আর নেইমার জুনিয়র এই কারণেই এক হতে হতেও হলেন না। ব্রুস শেষ অবধি সফল ছিলেন। আর নেইমার? ক্রমাগত চেষ্টার পরেও জাতীয় সাফল্য তাঁর হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে, ধরে রাখা যায়নি। গতিশীল নদীর জলকে কি আর আটকানো যায়?