
প্যারিস অলিম্পিক। প্যারিসে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ এলেই একজনের প্রসঙ্গ উঠবেই। সে সময় ক্রীড়া বিশ্বে মাইকেল ফেল্পস কিংবা মার্ক স্পিৎজ বলে কেউ ছিলেন না। যাঁরা নামলেই সোনা জিততেন। তবে ছিলেন জনি উইসমুলার বলে একজন। যিনি প্যারিসেই তিনটি সোনা জিতেছিলেন। ইভেন্ট সাঁতার। নাম জনি উইসমুলার হলেও তিনি কিন্তু পরিচিত টারজান নামেও। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। টারজানই। রিয়াল লাইফের জনি উইসমুলারই রিল লাইফের টারজান। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে! আরও একটু পরিষ্কার করা যাক।
শতবর্ষ আগের সুইমিং সুপারস্টার ছিলেন জনি উইসমুলার। ১৯২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে তিনটি সোনা জিতেছিলেন তিনি। ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল, ৪০০ মিটার এবং ৪X২০০ রিলে ইভেন্টে। এমনকি ওয়াটারপোলোতে ব্রোঞ্জও জিতেছিলেন। যে ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন পাভো নুরমিও। অলিম্পিকের সাফল্য থেকেই ব্রেক থ্রু। টারজান যে শুধু প্যারিসেই সোনার জিতেছিলে তা নয়। ১৯২৮ আমস্টারডাম অলিম্পিকে আরও দুটো সোনা জিতেছিলেন উইসমুলার। হয়তো আরও একবার তিনটি সোনা হতে পারত। যদিও পোলো টিম থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
টারজানের মুভি দেখেছেন? সেখানে কিন্তু অভিনয় করেছেন জনি উইসমুলার। অলিম্পিকের ছবি দেখেই তাঁকে এই ভূমিকায় নেওয়া হয়েছিল। ১৯৩২ সালে টারজান দ্য এপ ম্যান রিলিজ হয়। টারজান সিরিজে মোট এক ডজন সিনেমা রয়েছে। টারজানের নাম নিয়ে অবশ্য সমস্যা হয়েছিল। হলিউডের প্রোডিউসার বার্নার্ড হাইম্যান ভেবেছিলেন জনি উইসমুলারের নাম অনেক বড়। তাঁকে বোঝানো হয়েছিল, জনি একজন সফল অলিম্পিয়ান। সে কারণেই ওকে তাঁর নাম পরিবর্তন করা উচিত নয়। সিনেমার লেখক, যিনি চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনিই প্রোডিউসারের সঙ্গে উইসমুলারের নানা গল্প জানিয়েছিলেন। এমনকি স্ক্রিন টেস্ট দেওয়ার সময় পোশাকও খুলতে হয়েছিল উইসমুলারকে।