
নয়াদিল্লি : দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী ৫ বছরের জন্য খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প এবং ন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশনগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। এই দুই প্রঅল্পে মোট ৩৬,৪৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
স্বাধীনতার পর এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচি বলে দাবি করেছে কেন্দ্র সরকার। এর মধ্যে শুধুমাত্র খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের জন্য আগামী পাঁচ বছরে ২৯,০৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একদম নীচু স্তর থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি, ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেম্স্ আয়োজন ও ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের বিডকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশনগুলিকে আগামী ৫ বছরের জন্য মোট ৭৩৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ সালের জন্য এই খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগের খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ৮ গুণ বেশি। এর মাধ্যমে খেলাধূলোকে যুব উন্নয়ন ও বিশ্বের বৃহৎ ক্রীড়া শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্কুল পর্যায়ে আরও দুটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে – খেলো ইন্ডিয়া ফিডার স্কুলস ও খেলো ইন্ডিয়া উৎকর্ষ বিদ্যালয়। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মূলধারার শিক্ষাকে খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মহিলা ক্রীড়াবিদ, প্যারা অ্যাথলিট, দেশীয় খেলাধুলার প্রসারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল গেমস আয়োজন এবং ভারতে বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আয়োজনের ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হবে। এমনকি, একটি ডিজিটাল স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সেখানে ক্রীড়াবিদদের তথ্য, পরিকাঠামো, প্রতিযোগিতা, কোচিং ও ফিট ইন্ডিয়া কর্মসূচির সমস্ত তথ্য একত্রিত থাকবে। সরকারের মতে, এর ফলে পরিকল্পনা যেমন তথ্যভিত্তিক করা হবে, তেমনই স্বচ্ছ প্রশাসন ও প্রতিটি ক্রীড়াবিদদের জন্য ব্যক্তিগত উন্নয়নের পরিকল্পনা আরও ভাল করে কার্যকর করা সম্ভব হবে।