
নয়াদিল্লি : বছর কয়েক আগে একটি ঘটনায় তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল রাজধানী। ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি ব্রিজভূষণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, অনাকাঙ্খিত স্পর্শ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন মহিলা কুস্তিগীর। ব্রিজভূষণের শাস্তির দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন অবস্থান বিক্ষোভ করেন বজরং পুনিয়া, সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগটরা। এর পরেই দিল্লি পুলিশ মামলা দায়ের করে ও প্রায় ৩ বছর পর আজ তাঁকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে দিল্লি আদালত। এরপরেই মুখ খুলেছেন বিনেশ।
আদালতের এই রায়ের পর তিনবারের কমনওয়েলথ গেমস সোনাজয়ী বিনেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মহিলা কুস্তিগীররা নিজেদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন ও প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তাঁর কথায়,“আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছি, ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছি। নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে উনি অনেক মেয়েকেই এই মামলা থেকে সরতে বলেছিলেন। তবুও অনেক মহিলা না সরে এসে আদালতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। আদালত মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্থার মামলায় ব্রিজভূষণকে খালাস দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত হতাশ।” তিনি আরও বলেছেন,“শুরু থেকে সবাই তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। মহিলা কুস্তিগীররা বিষয়টি উচ্চ আদালতে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই সেই আবেদন করা হবে। আমরা আরও বড় আন্দোলন করব। আমরা আশাহত হইনি।”
রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার প্রসিকিউশন ও অভিযুক্ত পক্ষ – দুজনের রায় শোনার পর ব্রিজভূষণ ও ডব্লিউএমএফ এর সহ-সচিব বিনোদ তোমরকে খালাস দেন। ৬ জন মহিলা কুস্তিগীরের অভিযোগে এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। এরপর দিল্লি পুলিশ ২০২৩ সালে এফআইআর দায়ের করে ও প্রায় ১৫০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। তবুও প্রায় ৩ বছর পর আজ তাঁকে বেকসুর খালাস করার ফলে লড়াই আরও বাড়ানোর কথা বলে রাখলেন বিনেশ।