
গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের ঝুলিতে প্রথম সোনা। আর সেই সোনার পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তারকা ভারোত্তোলক মীরাবাঈ চানু। রবিবার মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন তিনি। কমনওয়েলথ গেমসে সোনার হ্যাটট্রিক করলেন তারকা এই ভারোত্তোলক। গোল্ড কোস্ট, বার্মিংহ্যামের পর এবার গ্লাসগো। স্ন্যাচে ৮৫ কেজি আর ক্লিন এন্ড জার্কে ১০৫ কেজি ভার উত্তোলন করে রেকর্ড। সব মিলিয়ে ভারত্তোলনে ১৯০ কেজি ওজন তুলে রেকর্ড করলেন মীরাবাঈ চানু।
টানা তিনটে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের নজির কোনও ভারতীয় ভারোত্তোলকের নেই। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিলেন মনিপুরের এই ভারোত্তোলক। টোকিও অলিম্পিকে রুপো জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন মীরাবাঈ চানু। তবে প্যারিস অলিম্পিকের হতাশা তিনি হয়তো ভুলতে পারবেন না। মাত্র এক কেজির জন্য ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হিসেবে তাই কমনওয়েলথ গেমসকে আবার বেছে নেন তিনি।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক দুটোতেই রেকর্ড গড়লেন। শুধু তাই নয়, ৪৮ কেজি বিভাগে মোট ১৯০ কেজি ভার তুলেও নজির গড়লেন চানু। মোট ১৯০ কেজি (স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে) ওজন তুলে শুধু সোনাই জেতেননি, ভেঙে দিয়েছেন একাধিক কমনওয়েলথ গেমসের রেকর্ডও। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক—দুই বিভাগেই প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন ৩১ বছরের এই অলিম্পিক পদকজয়ী। এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেক পিছনে ফেলে দেন তিনি।
স্ন্যাচ বিভাগে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৮৫ কেজি ওজন তুলে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন মীরাবাঈ। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি ওজন তুলে আরও একটি গেমস রেকর্ড নিজের নামে করেন। সব মিলিয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুলে গড়েন তৃতীয় রেকর্ডও, যা মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মোট ওজন তোলার নজির। রুপোর পদক জিতেছেন নাইজেরিয়ার রুথ আসুকো নিয়ং, যিনি মোট ১৬৮ কেজি ওজন তুলেছেন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন মালয়েশিয়ার আইরিন জেন হেনরি। তিনি মোট ওজন ১৬৭ কেজি ওজন তুলেছেন।
চানুর এই সোনার পদকের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক অভিযান শুরু হল দুর্দান্তভাবে। একই সঙ্গে টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করলেন তারকা এই ভারোত্তোলক।