
কলকাতা : আবার চরমে মোহনবাগান (Mohunbagan Supergiant) বনাম ফেডারেশনের (AIFF) সংঘাত। এবার ফিফা উইন্ডো না থাকলেও ইউনিটি কাপের (Unity Cup) জন্য ভারতীয় দলে ফুটবলার ছাড়ল না মোহনবাগান সুপারজায়েন্ট। লন্ডনে ভারতীয় দল খেলতে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে মোহনবাগান সংঘাত করে। এমনকি এই সংঘাতের জন্যই নিজেদের দলের ৭ জন খেলোয়াড়কে জাতীয় শিবির ছেড়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেয় বাগান দল। এর ফলে, সেই ৭ জন যেমন শিবিরে আর যোগ দেননি তেমনই লন্ডনগামী বিমানেও চড়েননি।
কারা এই ৭ ফুটবলার?
মোহনবাগানের এই নির্দেশের পরেই ৭ জন ফুটবলার জাতীয় শিবির ছাড়েন। তাঁরা হলেন – অনিরুদ্ধ থাপা, সাহাল আব্দুল সামাদ, লিস্টন কোলাসো, সুহেল ভাট, মনবীর সিং, আপুইয়া, অভিষেক টেকচ্যাম সিং, বিশাল কাইথ। এদের মধ্যে আপুইয়ার চোট থাকার ফলে বাকিরা শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। এই চোটের কারণে ইস্টবেঙ্গলের আনোয়ার আলিও জাতীয় দলের এই ক্যাম্পে যোগ দেননি।
মোহনবাগানের এই সিদ্ধান্তের কারণ কী?
মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, যেহেতু কোনও প্লেয়ারের চোট লাগলে অতীতকালে ফেডারেশন চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছে, তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহনবাগান। ক্লাব জানিয়েছে, যেহেতু ইউনিটি কাপ ফিফা উইন্ডোর বাইরে, তাই জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য নয় ক্লাব। তাই তারা প্রশ্ন করেছে, যদি এই ম্যাচে কোনও খেলোয়াড় চোট পান, সেই দায় ও চোটের খরচ কে দেবে?
আইএসএল-এর শেষ ম্যাচ খেলেই মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা বেঙ্গালুরুতে হওয়া এই শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন, ফলে কোনও রকম বিশ্রাম পায়নি তাঁদের শরীর। অতীতেও মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা চোট পেলেও ফেডারেশন তাঁদের কোনও চিকিৎসার খরচ বা দায় নেয়নি। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহনবাগান।
ইংল্যান্ডের লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ভারত সেমিফাইনাল ম্যাচে খেলতে নামবে ২৭ মে। সেই ম্যাচ জিতলে ফাইনাল খেলা হবে ৩০ মে। হারলে একই দিনে তৃতীয় স্থানাধিকারী হওয়ার ম্যাচে খেলতে নামবে ভারত। ভারত ছাড়াও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চলেছে নাইজেরিয়া, জিম্বাবোয়ে ও জামাইকা। এই টুর্নামেন্টটি হতে চলেছে লন্ডনের ভ্যালি স্টেডিয়ামে। তবে প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই এই ভাবে সংঘাত ঘটায় আবার চরমে ফেডারেশন বনাম ক্লাবগুলির দ্বন্দ্ব।