S-400-এর হদিশে ২০০ পাক চর! একেকটি তথ্যের জন্য ১০০ কোটির টোপ!
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা, তখন ভারতের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান। সেই সময় ভারতের অত্যাধুনিক S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের অবস্থান জানতে বিপুল অঙ্কের টোপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। তাঁর দাবি, একটি S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দিতে পারলে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। এই কাজে প্রায় ২০০ পাক গুপ্তচরকে নামানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা, তখন ভারতের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান। সেই সময় ভারতের অত্যাধুনিক S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের অবস্থান জানতে বিপুল অঙ্কের টোপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। তাঁর দাবি, একটি S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দিতে পারলে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। এই কাজে প্রায় ২০০ পাক গুপ্তচরকে নামানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর।
পাকিস্তানের ধারণা ছিল, ভারত সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে S-400-এর মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখবে না। সেগুলি কোনও নিরাপদ ও গোপন জায়গায় রাখা হবে। তাই রাজস্থান থেকে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাক গুপ্তচরদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র S-400-এর অবস্থান খুঁজে বের করা। কিন্তু বিপুল টাকার টোপ দিয়েও পাকিস্তান সেই তথ্য পায়নি বলে দাবি অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শালের।
কীভাবে এত বড় একটি সামরিক ব্যবস্থা পাকিস্তানের নজর এড়িয়ে গেল? জিতেন্দ্র মিশ্রের ব্যাখ্যা, বর্তমান সময়ে কোনও বড় সামরিক পরিকাঠামোকে পুরোপুরি লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। উপগ্রহ কিংবা গুপ্তচর—কোনও না কোনও উপায়ে তার অবস্থান শত্রুর নজরে আসতে পারে। ভারত তাই S-400-কে কোথাও লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেনি। বরং এমনভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে সেটি খোলা জায়গাতেই থেকেও সহজে চিহ্নিত করা না যায়।তাঁর দাবি, সেই সময় S-400-কে নিয়মিত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হত। দিনে দু’বার পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছিল। ফলে কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় নজরদারি চালিয়েও পাক গুপ্তচরদের পক্ষে তার অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শুধু জায়গা বদল নয়, S-400-এর বিভিন্ন অংশকে অন্য মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল। তাঁর ভাষায়, মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে অনেকটা টিভির মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল। S-400-এর আলাদা আলাদা অংশ অন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে রাখা হয়েছিল যে, অত্যন্ত অভিজ্ঞ চোখ ছাড়া সেগুলিকে আলাদা করে চেনা কঠিন। ফলে ১০০ কোটি টাকার পুরস্কারের প্রলোভন এবং প্রায় ২০০ গুপ্তচরকে কাজে লাগিয়েও পাকিস্তান S-400 সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি বলে দাবি জিতেন্দ্র মিশ্রের। পাক গুপ্তচর বা তাদের স্লিপার সেলগুলিও এই বিষয়ে কোনও কার্যকর তথ্য পায়নি।
তাহলে সেই পাক গুপ্তচরদের কী হল? কীভাবে তাঁদের অস্তিত্বের কথা জানতে পারল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী? অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্তার বক্তব্য, তাঁদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাকিস্তান যেমন ভারতে গুপ্তচর পাঠিয়েছিল, ভারতীয় গোয়েন্দারাও বসে ছিল না। পাক গুপ্তচররা কী ধরনের কাজ করতে পারে, সে সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা ছিল ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির। সেই প্রস্তুতির কারণেই তাদের শনাক্ত করতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
অর্থাৎ, পহেলগাঁও হামলার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল ভারতের S-400 এয়ার ডিফেন্সের অবস্থান জানা। কিন্তু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোবাইল মোতায়েন, বিভিন্ন অংশকে অন্য সিস্টেমের সঙ্গে মিশিয়ে রাখা এবং গোয়েন্দা নজরদারির কারণে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি বলেই দাবি অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের।