Bear Attack: ভাল্লুক হামলা চিন্তা বাড়াচ্ছে জাপান-ভারতে, জঙ্গলে ভাল্লুকের হানা এড়াবেন কীভাবে?

| Edited By: Purvi Ghosh

May 20, 2026 | 10:05 PM

বনাঞ্চলে চাষাবাদ ও বসতি বাড়ায় ভাল্লুকের বিচরণক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে। পাশাপাশি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবেও বদলাচ্ছে তাদের আচরণ। ভাল্লুক সাধারণত দীর্ঘ সময় শীতঘুমে থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন হচ্ছে। বনে প্রিয় খাবারের অভাব, প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত চাপ—সব মিলিয়ে ভাল্লুকের আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাঘ বা সিংহ নয়, এখন আতঙ্কের নতুন নাম ভাল্লুক। ভারতে যেমন পাহাড়ি ও জঙ্গল এলাকায় বাড়ছে ভাল্লুকের হামলা, তেমনই জাপানেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জাপানে ভাল্লুক তাড়াতে সেনা নামানো হয়েছে। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। অন্যদিকে ভারতে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে ভাল্লুক।সকাল ও বিকেলের দিকে পাহাড়ি জঙ্গলের নির্জন রাস্তায় বেরোতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। গত কয়েক বছরে ভাল্লুকের হামলায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। যদিও সব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।

ভারতে মূলত তিন ধরনের ভাল্লুক দেখা যায়। প্রথমত, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার। জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি এলাকায় এদের দেখা মেলে। সাধারণত খাবারের খোঁজে বা শীতকালে নিচু এলাকায় নেমে এসে মানুষের উপর হামলা চালায় এরা। দ্বিতীয় প্রজাতি হল স্লথ বিয়ার। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গল এলাকায় এদের আধিপত্য বেশি। এই প্রজাতির ভাল্লুক স্বভাবে আক্রমণাত্মক। ভয় পেলে মানুষের উপর মারাত্মক হামলা চালায়। তৃতীয় প্রজাতি ব্রাউন বিয়ার। সংখ্যায় কম এবং মূলত উচ্চ হিমালয় এলাকায় দেখা যায়। তাই মানুষের সঙ্গে সংঘাতও তুলনামূলকভাবে কম।

পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে উত্তরাখণ্ডে প্রায় ১০০টি ভাল্লুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মারা গিয়েছেন প্রায় ১০ জন। আহতের সংখ্যা ৭০-এরও বেশি। জম্মু-কাশ্মীরের আপেল বাগান এলাকাগুলিতেও গত কয়েক বছরে ভাল্লুকের হামলায় বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বছরে গড়ে প্রায় ২০০টি ভাল্লুক হামলার ঘটনা ঘটছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ ভাল্লুকের স্বাভাবিক খাদ্য নয়। ভাল্লুক সর্বভুক প্রাণী। মাছ, ছোট হরিণ, পিঁপড়ে, উইপোকা যেমন খায়, তেমনই মধু, ফল এবং বাদামও তাদের পছন্দের খাবার।

তাহলে মানুষের উপর হামলা কেন বাড়ছে?

বনাঞ্চলে চাষাবাদ ও বসতি বাড়ায় ভাল্লুকের বিচরণক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে। পাশাপাশি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবেও বদলাচ্ছে তাদের আচরণ। ভাল্লুক সাধারণত দীর্ঘ সময় শীতঘুমে থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেই স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন হচ্ছে। বনে প্রিয় খাবারের অভাব, প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত চাপ—সব মিলিয়ে ভাল্লুকের আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাপানেও পরিস্থিতি একইরকম উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সেখানে ভাল্লুকের হামলার সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। মারা গিয়েছেন প্রায় ২০ জন। বহু এলাকায় মানুষ একা বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন।জাপানে হামলার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গ্রামাঞ্চলের জনশূন্যতা। গ্রাম ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে ভাল্লুক। সামনে মানুষ পড়লেই আক্রমণ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাপান সরকার সেনা নামিয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে লোকালয়ের আশেপাশে ভাল্লুকের উপস্থিতি খোঁজা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে গেলে দল বেঁধে এবং শব্দ করতে করতে চলা উচিত। সঙ্গে ফল বা তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার রাখা উচিত নয়, কারণ গন্ধে ভাল্লুক আকৃষ্ট হতে পারে। ভাল্লুকের মুখোমুখি হলে দৌড়তে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ভাল্লুক মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত দৌড়াতে পারে। ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসতে হবে এবং ভাল্লুকের দিকে নজর রাখতে হবে। কোনও উপায় না থাকলে মাটিতে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে ঘাড় ও মুখ দু’হাত দিয়ে ঢেকে ফেলতে হবে। কারণ ভাল্লুক সাধারণত মুখে থাবা মারার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে মুখ ঢেকে থাকলে ভাল্লুক নিজেই সরে যায়। কারণ মানুষ তাদের স্বাভাবিক শিকার নয়।

Follow Us