
আলিপুরদুয়ার: ভুটানের পাহাড়ি এলাকায় টানা মুষলধারে বৃষ্টির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ডুয়ার্সের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও। প্রবল বর্ষণের জেরে ভুটান থেকে নেমে আসা একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলার কালজানি, তোর্সা, পানা-সহ একাধিক নদী বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁর বিবাড়ি এলাকায় গোবরঝোড়া নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী ডাইভারশন সেতু প্রবল স্রোতের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় ভারত ও ভুটানের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, গত রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে গোবরঝোড়া নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতে নদীর উপর তৈরি অস্থায়ী ডাইভারশন রাস্তার বড় অংশ ভেসে যায়। এর ফলে জয়গাঁ এবং ভুটানের ফুন্টশোলিংয়ের মধ্যে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার সকাল থেকেই রাস্তার দু’ধারে পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বহু যাত্রীও মাঝপথে আটকে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার থেকে জয়গাঁ হয়ে ভুটানের ফুন্টশোলিং যাওয়ার এটিই প্রধান সড়কপথ। গত বর্ষায় গোবরঝোড়া নদীর উপর নির্মিত মূল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যান চলাচল সচল রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অস্থায়ী ডাইভারশন সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বর্ষার প্রথম বড় বৃষ্টিতেই সেই ডাইভারশনও ভেসে গেল।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভারত-ভুটান বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। জলস্তর কমলেই ক্ষতিগ্রস্ত ডাইভারশন মেরামতের কাজ শুরু করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, প্রবল বৃষ্টির জেরে পানা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কালচিনি ও সেন্ট্রাল ডুয়ার্সের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সেন্ট্রাল ডুয়ার্সের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার জেলার সুভাষিণী চা-বাগান এলাকায় তোর্সা নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় নদীর তীরবর্তী বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন নজরদারি চালাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।