
বাঁকুড়া: অপরাধ ছিল একটাই—বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। আর সেই ‘অপরাধের’ কারণে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে নিজের জন্মভিটে থেকে বিতাড়িত থাকতে হয়েছিল বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের কুশমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিমল চন্দ্র বোড়াকে। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খোদ বিজেপি বিধায়কের হাত ধরে সসম্মানে নিজের ঘরে ফিরলেন এই প্রবীণ দলীয় কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোট থেকেই ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন বিমল। ১৯৯৩ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৎকালীন শাসক দলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি প্রার্থী হন। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও, ভোট মিটতেই তাঁর ওপর নেমে আসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। প্রাণভয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ভবঘুরের মতো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অবশেষে আরামবাগে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই বিয়ে করে ঘর সংসার পাতেন তিনি। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা বদল হলেও, শাসক দলের সন্ত্রাসের ভয়ে তিনি আর গ্রামে ফেরার সাহস পাননি।
তবে রাজ্যে ফের সরকার পরিবর্তন হতেই ইন্দাস বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া উদ্যোগী হয়ে বিমলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গতকাল সন্ধ্যায় আরামবাগ থেকে তাঁকে সসম্মানে কুশমুড়ি গ্রামের নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বিধায়ক নির্মল নিজে তাঁকে বরণ করে গ্রামে স্বাগত জানান। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর নিজের জন্মভূমিতে পা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবীণ এই বিজেপি কর্মী।